নীলফামারী শহরের বড় বাজারগুলোতে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দেখা যায়, শীতকালীন আগাম সবজি বাজারে আসায় শাকসবজির অনেকেরই দাম কমেছে; একই সঙ্গে চাল, ডাল ও মাংসের দামে তীব্র ঊর্ধ্বগতি সাধারণ ভোক্তার কাঁধে অতিরিক্ত বোঝা সৃষ্টি করেছে।
সবজি সস্তা হওয়ায় ক্রেতাদের আংশিক স্বস্তি
বাজার সার্ভেতে ব্যবসায়ীরা ও ক্রেতারা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির খুচরা দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। প্রতি কেজিতে ফুলকপির দাম ৫০ থেকে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ থেকে ৪০ টাকা, মুলা ৪০ থেকে ২৫ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৪০ টাকা এবং করলা ৫০ থেকে ৩০ টাকা নামিয়েছে বিক্রেতারা।
এছাড়া ধনেপাতা ১০০ টাকা থেকে ৫০ টাকা এবং টমেটো ৬৫ থেকে ৪৫ টাকা হয়ে গেছে। সবজি সরবরাহ বাড়ায় বাজারে এই ঘাটতি ভরাট হওয়ায় দাম নেমে আসছে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করেন। লাউয়ের কেজি নয় বরং প্রতিটি লাউয়ের দামও আগে প্রতিটি ২০–৩০ টাকা থাকলেও বর্তমানে আকারভেদে ১০–১৫ টাকায় ক্রেতারা পাচ্ছেন।
কেন সবজির দাম নেমেছে?
বাজারের পাইকার এবং খুচরা বিক্রেতারা বলছেন শীতকালীন আগাম ফসল বাজারে আসতে শুরু করেছে, ফলে সরবরাহ বেড়েছে এবং যা দাম কমার প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। তবে তারা সতর্ক করে দেন যে, দাম আরও কমবে কি না তা নির্ভর করে আবহাওয়া, উৎপাদন পরিস্থিতি, পরিবহন খরচ ও পাইকারি বাজারের ওঠানামার ওপর।
চালের বস্তা, মাংস-ডালের দাম বাড়ায় ক্রেতা উদ্বিগ্ন
সবজির দাম কমার সুফল অনেক অংশেই ম্লান হয়ে পড়েছে অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্থায়ী মূল্যবৃদ্ধির কারণে। ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দেয়া তথ্যে বলা হয়েছে, ১২ কেজি চালের বস্তায় গত এক সপ্তাহে ১০০ টাকা বৃদ্ধি ঘটেছে; ব্রয়লার মুরগির প্রতি কেজিতে ৩০ টাকা এবং গরুর মাংসে প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা বাস্তবিকভাবে বাড়তি ব্যয় তুলে দিয়েছে পরিবারের খাদ্যবাজেটের ওপর। পাশাপাশি মসুর ডালে প্রতিকেজিতে ১০ টাকা বৃদ্ধি হওয়ায় দাল-মাছ-মাংস নির্ভর পরিবারগুলো বিশেষভাবে প্রভাবিত।
বাজারে উপস্থিত একজন গৃহিণী বলেন যে সবজি সস্তা হওয়ায় কিছুটা সুবিধা পেলেও মাসের শেষে চাল ও ডাল-মাংসের অতিরিক্ত খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে। সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এই গোলযোগই বাস্তব চিন্তার বিষয়।
দাম হ্রাস বৃদ্ধির তুলনা — বাজারের কিছু পণ্যের পরিবর্তন
| পণ্য | গত সপ্তাহে | এই সপ্তাহে | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| ফুলকপি (প্রতি কেজি) | ৫০ টাকা | ৪০ টাকা | -১০ টাকা |
| বাঁধাকপি (প্রতি কেজি) | ৬০ টাকা | ৪০ টাকা | -২০ টাকা |
| মুলা (প্রতি কেজি) | ৪০ টাকা | ২৫ টাকা | -১৫ টাকা |
| টমেটো (প্রতি কেজি) | ৬৫ টাকা | ৪৫ টাকা | -২০ টাকা |
| ব্রয়লার মুরগি (প্রতি কেজি) | ১৪০ টাকা | — | +৩০ টাকা (বৃদ্ধি) |
| গরুর মাংস (প্রতি কেজি) | — | — | +৫০ টাকা (বৃদ্ধি) |
কী বলছেন ব্যবসায়ীরা?
- পাইকাররা বলছেন, শীতবস্তুর আগাম সরবরাহ বাড়ায় খুচরা বাজারে চাপ পড়ছে এবং তা দাম কমাচ্ছে।
- তবে তারা উল্লেখ করেছেন, পরিবহন খরচ ও পাইকারি স্টকিং হলে দাম আবার উঠতেও পারে।
- মাংস ও চাল-ডালসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে সরবরাহ সঙ্কট, আমদানি ও গুদামজাত মূল্য ওঠানামা ও স্থানীয় চাহিদার অস্থিরতা গুণেছে বলে তারা মনে করেন।
নীলফামারীর বাজারে ক্রেতাদের একাংশ আশা করেন, সবজির স্থিতিশীল সরবরাহ বজায় থাকলে কমপক্ষে মৌলিক শাকসবজিতে তাদের দৈনন্দিন খরচ কমে যাবে; কিন্তু চাল ও ডাল-মাংসের দাম নিয়ন্ত্রণ না হলে সাধারণ পরিবারের মোট খাদ্য বাজেট পরিকল্পনার ওপর প্রভাব অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় প্রশাসন বা ভোক্তা অধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং ও মূল্য স্থিতিশীলকরণ মেকানিজম জোরদার করলে ভোক্তারা স্বস্তি পেতে পারেন—এমনটাই মনে করছে বাজার পর্যবেক্ষকরা।
মারুফ বারী
নীলফামারী থেকে, ZTL