অবস্থান ও পদক্ষেপ
লক্ষ্মীপুরে সাম্প্রতিক সময়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নানা অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বদলি বা সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা হলেন লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বিলকিস আক্তার এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন।
পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় মহলে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও প্রকাশের পরে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। ভিডিওতে একটি উদ্ধৃতি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে অভিযোগ অনুযায়ী তিনি বলেন:
“২ কোটি টাকার নিচে নেব না”
ভিডিওর সূত্র ধরে উচ্চতর কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে সাময়িকভাবে পদ থেকে সরানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় অভিযোগ ও প্রশাসনিক তৎপরতা
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মজুপুর এলাকায় চলমান ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকার সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যবহার করা যায় এমন সামগ্রীর মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র সংশয় ও ক্ষোভ দেখা দেয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে কাজের জন্য ন্যূনতম মানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে এবং সরকারি অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়নি। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করে এবং তাঁকে তলব করা হয়। এরপর থেকে ওই প্রকৌশলীকে খুলে দিয়েছে এবং পরে অন্যত্র পদায়ন করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী বিলকিস আক্তারের বিরুদ্ধে ওয়াশ সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্পে অনিয়ম ও তদারকিতে ত্রুটি থাকার অভিযোগ তুলেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। অভিযোগে রয়েছে ৯ হাজার ৩৮৯টি টুইন পিট ল্যাট্রিন বিতরণ কার্যক্রমের অনিয়ম এবং প্রায় ৫৬ কোটি টাকা মূল্যের ওয়াশ প্রকল্পে অস্বাভাবিকতা—এছাড়া জেলা রূপে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ওয়াশব্লক নির্মাণে ত্রুটির কথাও বলা হয়েছে। এসব অভিযোগ পর্যালোচনার পর তাঁকে স্ট্যান্ড রিলিজড করে সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
প্রভাব ও স্থানীয় উদ্বেগ
এই পরিবর্তনগুলো লক্ষ্মীপুরের সাধারণ জনজীবন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কাজে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। স্থানীয়রা বলছে, প্রকল্প বিঘ্নিত হলে কাজের গতি, মান নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ প্রভাবিত হবে। অন্যদিকে অনিয়ম খুঁজে বের করে বিচারিক ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রুক্ষ হওয়া সম্ভব—তবে তা নিশ্চিত হতে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত অপরিহার্য।
স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের মধ্যে যেসব প্রকল্প চলছে, সেগুলোর সুষ্ঠু তদারকি ও মান নিশ্চিতে নিয়মিত পরিদর্শন ও স্বচ্ছতা বাড়াতে স্থানীয় জনগণ এবং প্রশাসনের কাছে দাবি উঠেছে। স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনস্বার্থ রক্ষায় দুই দিকেই নজর দেওয়া হবে বলে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জানিয়েছে।
তথ্যচিত্র ও অনুসন্ধান—কি জানা গেছে
| প্রতিষ্ঠান | নির্বাহী প্রকৌশলী | সিদ্ধান্ত |
|---|---|---|
| লক্ষ্মীপুর পিডিবি | নুরুল আমিন | সাময়িক বরখাস্ত (ভিডিও ভাইরাল) |
| জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর | বিলকিস আক্তার | স্ট্যান্ড রিলিজড (পদায়ন) |
| লক্ষ্মীপুর পৌরসভা | জুলফিকার হোসেন | পদান্তরে বদলি |
উপরে বর্ণিত তথ্য স্থানীয় সংবাদপত্র ও অনলাইন সূত্রে পাওয়া প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সংকলিত। তদন্ত কমিটি ও দূদকের অনুসন্ধান এখনো চলমান রয়েছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও আশা
- স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন—প্রকল্পগুলোর মান যাচাই করে ক্ষতিপূরণ বা পুনঃনির্মাণ করা হোক।
- নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদল হলে প্রকল্পের দায়িত্বশীলতা কোথায় যায়, সেটি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
- দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ত্বরিত ও স্বচ্ছ তদন্তের ওপর জনগণের আস্থা টিকে থাকতে পারে।
এ পর্যায়ে তদন্তের ফলাফল এবং কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই আগামী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করবে। স্থানীয় উন্নয়ন কাজে স্বচ্ছতা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ দেখতে চাইছে লক্ষ্মীপুরবাসী।