জয়পুরহাটে এই মৌসুমে কলা চাষি ও ব্যবসায়ীরা দ্বিমুখী সংকটে পড়েছেন। মাঠে আবহাওয়ার কারণে ফল আগাভাবে পেকে বা নষ্ট হচ্ছে, গাছের পাতা ঝরে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কলায় কালো দাগ দেখা যাচ্ছে; একই সময়ে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বিক্রেতারা প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন না।
ক্ষতির কাহিনি: মাঠ থেকে হাট—দুই দিকেই সমস্যা
জয়পুরহাট সদর উপজেলার আউশগাড়া মহল্লার এক কৃষক জানান, দেড় বিঘা জমিতে সাগর কলা চাষ করেছিলেন তিনি। কিন্তু এবার কলা পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই পেকে যাচ্ছে এবং গাছের পাতা মরে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অন্য কৃষকরা বলছেন, ফল ভালো হলেও ফলের গায়ে কালো দাগ পড়ছে, কোথাও-কোথাও গাছ ভেঙে পড়ায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাজার দুর্গাদহ হাট, যা উত্তরাঞ্চলের একটি পরিচিত কলার হাট, সেখানেও ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বাজার মূল্যও নেমে এসেছে। এক ছোট আকারের বিক্রেতা তার দুই ঘাউড় কলা নিয়ে এসে পেয়েছেন মাত্র ৬০০ টাকা— যা তাদের উৎপাদন খরচও কভার করতে পারে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
চাষি-ব্যবসায়ীর দাবি ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
কৃষকরা অভিযোগ করেন, এমন দারুণ ক্ষতির মুখে পড়লেও স্থানীয় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে পর্যাপ্ত পরামর্শ বা মাঠ সহযোগিতা তারা পাচ্ছেন না। অনেকে বলেছেন, রোগবালাই ও আবহাওয়ার পালাবদল নিয়ে কার্যকর নির্দেশনা না পেলে সমস্যা ক্রমশ বাড়বে।
“বাগানে কলা পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকছে, গাছের পাতা মরে যাচ্ছে—লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ তুলতে পারছি না,”
অন্যদিকে কৃষি বিভাগ দাবি করেছে যে, তারা মাঠপর্যায়ে নিরাপদ কলা উৎপাদন ও রোগ-পোকা রোধে পরামর্শ দিচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনও বাজার সম্প্রসারণ এবং যানজট কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের কাছে এসব কার্যক্রম এখনও পর্যাপ্ত মনে হচ্ছে না।
স্থানীয় প্রভাব ও সম্ভাব্য ঝুঁকি
কলার এই সংকট কেবল সরাসরি চাষি ও খুচরা বিক্রেতাদের আয় কমাচ্ছে না; এতে পরিবহন, পাইকারী ও আদি-মধ্যস্থ পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের কাজে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। যদি অবস্থা অব্যাহত থাকে, তাহলে এলাকার কৃষি অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়বে। ছোট চাষীরা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সামাজিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।
- ক্ষতি ঘরানা: আগাম পাকানো, পাতার মরা, ফলের ওপর কালো দাগ, গাছ ভেঙে পড়া।
- বাজার ঝুকি: দুর্গাদহ হাটে ক্রেতার অভাব, নিম্নমূল্য বিক্রয়।
- সেবা অভাব: কৃষি পরামর্শ ও মাঠসহায়তার সীমিত প্রাপ্যতা বলে অভিযোগ।
স্থানীয় উদাহরণ ও বাজারের সামান্য তথ্য
কিছু স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীর কথা সূত্রে জানা যায়—
| নাম/স্থান | চাষজমি/পরিমাণ | বাজার/দর |
|---|---|---|
| গোলাম ফারুক (আউশগাড়া) | ১.৫ বিঘা (সাগর কলা) | — |
| সাজ্জাদ হোসেন ও আব্দুল হামিদ | কয়েক বিঘা (চিনি চম্পা) | — |
| দুর্গাদহ হাট | — | ২ ঘাউড়ের কলা: ৬০০ টাকা |
সমাধানের পথে কী করতে হবে?
কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগগুলো মাঠ পর্যায়ে দ্রুত কার্যকর করতে হবে— বিশেষত রোগনিয়ন্ত্রণ, সময়োপযোগী কৃত্রিম সার বা কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ, দ্রুত বাজারসংযোগ ও ভোক্তা-ক্রেতা আনতে বণিকদের সাথে সমন্বয় ও যানজট নিয়ন্ত্রণ। তদুপরি, কৃষকদের জন্য ক্ষতিপূরণ, ক্রেডিট বা অগ্রিম মূল্য নিশ্চিতকরণের ব্যবস্থা সরবরাহ করলে স্বল্পমেয়াদে চাপ কমাতে সাহায্য মিলবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকরা বলছেন, শুধু কথায় নয়, দ্রুত মাঠভিত্তিক কার্যক্রম ও যৌক্তিক বাজার ব্যবস্থাপনা না হলে আগামী কয়েক সপ্তাহে অধিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও কৃষি-বাণিজ্য সমিতিকে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে দ্রুত সমাধানমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।