সিরাজগঞ্জে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্কে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন এবং আবশ্যক প্রযুক্তিগত কাজ সম্পন্ন হলে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে প্রকল্প পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে জানান যে, ডিসেম্বের মধ্যে এসব কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিদর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পরিদর্শনের সময় বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ, জেলা প্রশাসক মো: আমিনুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু, বিসিক শিল্প পার্ক প্লট মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল কাদের শেখসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে মুখ্যসচিব বলেন প্রকল্পটি উত্তরাঞ্চলের বেকারত্ব দূরীকরণ ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কাজ শেষ হলে প্লট বরাদ্দ নেওয়া উদ্যোক্তারা শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজ শুরু করতে পারবে, বলে তিনি যোগ করেন।
“নির্বাচন‑পূর্ব সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিসিক শিল্প পার্ক মাঠে সভা করতে এসে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। থমকে থাকা এ প্রকল্প দ্রুত শেষ করা হবে—সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে।”
কী কাজ বাকি আছে এবং কোন সুবিধা মিলবে
প্রকল্পের কাজের মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ সুষ্ঠুভাবে জোগাড় করা, যোগাযোগ ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য ভিত্তি-সুবিধা নিশ্চিত করা রয়েছে। মুখ্যসচিবের বক্তব্য অনুসারে এসব কাজ সমাপ্ত হলে প্লট মালিকরা দ্রুত শিল্প স্থাপন শুরু করতে পারবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়ে গেলে শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য নিম্নলিখিত সুবিধা প্রত্যাশিত:
- নিয়মিত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ—উৎপাদন কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা
- শ্রমসংস্থান বৃদ্ধি—স্থানীয় বাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়ক
- অঞ্চলের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপে জোরদার ফলাফল
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও জনগণের প্রত্যাশা
উত্তরাঞ্চলে শিল্প-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করা এবং কর্মসংস্থান সুসংহত করা সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্কের মতো প্রকল্পগুলো এই লক্ষ্য বাস্তবে রূপান্তরিত করার অংশ হিসেবে বিবেচিত। প্লট মালিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশা করছেন দ্রুত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ হওয়ায় তাদের বিনিয়োগ কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে।
ভবিষ্যৎ ধাপ ও নিরীক্ষণ
প্রকল্পের সময়সূচি অনুসারে স্থানীয় প্রশাসন ও বিসিকের তত্ত্বাবধানে আনুষঙ্গিক কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে। সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট চত্বরে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব শহীদ শামসুদ্দিন গেট‑২-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, যা স্থানীয় প্রশাসনের অংশগ্রহণ ও বাস্তবায়নের সংকল্পকে নির্দেশ করে।
| ঘটনা | বিবরণ |
|---|---|
| পরিদর্শন তারিখ | ২২ অক্টোবর (প্রতিবেদন প্রকাশিত) |
| প্রধান বক্তব্যকারি | এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব |
| প্রকল্পের লক্ষ্যসময় | ডিসেম্বরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগসহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষ |
স্থানীয়দের কথা
স্থানীয় প্লট মালিক ও ব্যবসায়ীরা এ ঘোষণাকে দারুণ সাড়া বলে প্রশংসা করেছেন এবং দ্রুত বাস্তবায়ন হলে কর্মসংস্থান বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। প্রশাসন ও বিসিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ এগোলে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও শিল্পকৌশল চালু করা সহজ হবে বলে তারা উল্লেখ করেছেন।
অবকাঠামো ও সরবরাহবিষয়ক কাজ দ্রুত শেষ হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা ও পরিবেশগত মান বজায় রাখার বিষয়টাও গুরুত্ব পাবে—বিশেষত স্থানীয় জীবিকা ও জলবায়ু সংবেদনশীল অঞ্চলের জন্য। পরিকল্পিত সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন হলে সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রোফাইল ও কর্মসংস্থান সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করা যায়।
সিরাজগঞ্জ থেকে নীলুফার দেওয়ান, ZTL প্রতিনিধিত্বে।