বরগুনার আমতলী উপজেলা এলাকায় পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শুরু হওয়া ব্লক নির্মাণকাজে লবণাক্ত ও নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, দরপত্রে বালুর এফএম মান ২.০০-এর উপরে নির্ধারণ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না, ফলে নির্মিত ব্লকগুলোর স্থায়িত্ব সংকটে পড়বে।
কী হচ্ছে কাজের পরিসরে
পরে জানা গেছে, চাওড়া ইউনিয়নের বৈঠাকাটা ৪৩/১ এবং আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া ৪৪/বি পোল্ডারে মোট ৪ হাজার ৫০০ মিটার ব্লক নির্মাণের জন্য একাধিক প্যাকেজে ঠিকাদারি কাজ চলছে। এর মধ্যে চারটি প্যাকেজের মোট দরপত্র মূল্য মিলিয়ে হচ্ছে ১৩৮ কোটি ৪৮ লাখ ৩২ হাজার ১৭৬ টাকা। এই চারটি প্যাকেজের কাজ পেয়েছে ন্যাশন টেক নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
| প্যাকেজ নম্বর | দরপত্র মূল্য (টাকা) | বর্তমান নির্মাণ দৈর্ঘ্য (মিটার) |
|---|---|---|
| ৩ | ৩৩,৮১,৮৯,৩৩৫ | ৬০০ |
| ৪ | ৩৪,৮৮,৮০,৯৪৭ | ৬০০ |
| ১৪ | ৩৪,৮৮,৮০,৯৪৭ | অস্তিত্বপূর্ণ (চলমান) |
| ১৫ | ৩৪,৮৮,৮০,৯৪৭ | অস্তিত্বপূর্ণ (চলমান) |
স্থানীয়দের অভিযোগ ও আশংকা
স্থানীয়রা জানায়, দরপত্রে স্পষ্টভাবে বলা ছিল ব্লক নির্মাণে সিলেকশন বালু ব্যবহার করতে হবে এবং বালুর এফএম মান ২.০০-এর উপরে থাকতে হবে। কিন্তু অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম থেকে লবণাক্ত (লবণ পানি দ্বারা প্রভাবিত) বালু এনে সেখানে স্তূপ করে রেখেছে এবং সেই বালু দিয়েই কাজ শুরু করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরণের বালু দ্রুত ভাঙন ও লবণজনিত ঘনতার কারণে ব্লকের ভিতরে ক্ষয় করবে।
“ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের লবণ পানির বালু এনে স্তূপ করে রেখেছে। ওই বালু দিয়ে বুধবার কাজ শুরু করেছে। এ বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করলে টেকসই হবে না। অল্প দিনের মধ্যেই ব্লক ক্ষয় হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে,”
এ বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয়রা—যারা দাবি করছেন দ্রুত তদন্ত করে মানসম্মত সিলেকশন বালু ব্যবহার নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ক্ষতি হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিশ্রুতি
এ বিষয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বালুর মান পরীক্ষা করে যদি তা ঠিক না থাকে তৎক্ষণাত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টি জানানোর পরও তাদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
ব্লকগুলো সঠিকভাবে টেকসই না হলে পোল্ডারের সুরক্ষা, কৃষিজমি ও আশপাশের বসতঘর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। পায়রা নদীর ভাঙন বরাবরই আশপাশের মানুষদের জন্য জীবনযাত্রা ও ফসলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনেক লোকের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির সঙ্গে এই নির্মাণ কাজ জড়িত—তাই নির্মাণ সামগ্রী ও পদ্ধতি নিয়ে সতর্কতা জরুরি বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
- স্থানীয়দের দাবি: দ্রুত তদন্ত করে সিলেকশন বালু বসানো হোক।
- পাউবো কথায়: বালুর মান পরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
- পরিস্থিতি বদলাতে না পারলে ভবিষ্যতে ব্লক নষ্ট হলে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং পরিবেশগত ঝুঁকি রয়েছে।
এমন সময় নির্মাণকর্মের তত্ত্বাবধান ও মান নিশ্চিত করা কাদের দায়িত্ব—এ প্রশ্ন উঠে। স্থানীয় মানুষরা চান, প্রকল্প ব্যয়ে সর্বোচ্চ মনিটরিং রাখা হোক এবং দরপত্রে নির্দিষ্ট মান ঠিক থাকলে তা কড়াভাবে মানা হোক যাতে ভবিষ্যতে পুনর্নির্মাণ ও সরকারি অর্থের অপচয় এড়ানো যায়।
আমতলী থেকে পাঠানো এই প্রতিবেদন পরিষ্কার কয়েকটি দাবি তুলে ধরে: নির্মাণে ব্যবহৃত বালুর মান স্বচ্ছভাবে পরীক্ষিত হোক, ফলাফল জনগণের কাছে জানানো হোক এবং প্রকল্পে ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করা হোক—যাতে পায়রা নদীর ভাঙন রোধে নেওয়া প্রচেষ্টা স্থায়ী ও কার্যকর থাকে।