চুয়াডাঙ্গা জেলা তে সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতা এবং দলীয়করণ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা। বুধবার দুপুরে জেলা কার্যালয়ের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা নেতৃত্ব এসব অভিযোগ জানান এবং ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আহ্বান জানান।
নির্দিষ্ট সংখ্যাগত অভিযোগ
জেলা জামায়াত লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেছে যে, এই বছর চুয়াডাঙ্গার চারটি উপজেলা-তে মোট ৪৫টি সার ডিলারশিপের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৬৪২টি। জেলার দলটি বলেছে, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব ও যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা যাচাই করে প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা উচিত।
| বিবরণ | সংখ্যা |
|---|---|
| উপজেলা সংখ্যা | ৪ |
| প্রস্তাবিত ডিলারশিপ | ৪৫ |
| মোট আবেদন | ৬৪২ |
দাবি ও দাবি আদেশ
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের পক্ষ থেকে আট দফা দাবি উত্থাপিত হয়েছে। তাদের মৌলিক অনুরোধগুলো সংক্ষেপে:
- নিয়োগপ্রক্রিয়া তদন্তে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করা।
- নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করা।
- নিয়োগের মানদণ্ড ও ফলাফল প্রকাশ করা।
- আবেদনকারীদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ নিশ্চিত করা।
- ডিলারশিপ প্রাপ্তির নামে অর্থ লেনদেন বা ব্যক্তিগত প্রভাবের প্রমাণ পেলে সে অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
- তদন্ত চলাকালে প্রয়োজন হলে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন।
- নিয়োগে দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক প্রভাবের পরিবর্তে যোগ্যতা, সততা ও কৃষকসেবার ক্ষমতার উপর গুরুত্বারোপ।
- কৃষকদের নির্ধারিত মূল্যে সময়মতো সার পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা।
“নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”
জেলা জামায়াত জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এতে উপস্থিত ছিলেন বলে তাদের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেলসহ অন্যরা ছিলেন।
প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া ও স্থানীয় প্রভাব
চালু নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে এমন অভিযোগ উঠলে তা কৃষক সম্প্রদায়ের কাছে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে। সার ডিলারের মাধ্যমে জেলা কৃষকেরা সার ক্রয়ের নির্ভরযোগ্য উৎস পান; সেখানে যদি স্বচ্ছতা না থাকে, তা সরবরাহ ও মূল্য উভয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জেলার জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও কৃষি মন্ত্রণালয়কে জামায়াত লিখিতভাবে অনুরোধ করেছে যে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কিত সব নথি ও প্রক্রিয়া প্রকাশ করা হোক এবং যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা হোক।
জেলার আকর্ষণীয় কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতিতে সার সরবরাহের দায়িত্বশীল পদে অনিয়ম থাকলে কৃষি উৎপাদন ও ফসলি খরচ দুটোই প্রভাবিত হবে। স্থানীয় নেতারা বলেন, দরকারী হলে তারা অপরাধ প্রমাণের ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করবেন।
পরবর্তী করণীয়
স্থানীয়ভাবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কয়েকটি ধাপ জরুরি—আবেদনকারীদের কাগজপত্র যাচাই, জমা প্রদত্ত অর্থ লেনদেনের উৎস তদন্ত, এবং নিয়োগর প্রক্রিয়ার সময়সীমা ও মানদণ্ড সপষ্টভাবে প্রকাশ। এসবের ওপর ভিত্তি করেই প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে তা জনসমক্ষে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করবে বলে স্থানীয় নেতারা আশা করেন।
জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কৃষক ও আবেদনকারী মধ্যস্থরা বলছে, দ্রুত ও স্বচ্ছ সমাধান না হলে তারা প্রশাসনিক স্তরে জানতে চায় কীভাবে নির্বাচন করা হয়েছে এবং কেন যোগ্য আবেদনকারীরা বাদ পড়েছে।
চুয়াডাঙ্গা থেকে নুসরাত আকন্দ।