পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার কাউখালীর চরসাইনবোর্ড এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধভাবে তরমুজচাষের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি ঝাউগাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে—এমন অভিযোগে বন বিভাগ শুক্রবার রাঙ্গাবালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে। বন বিভাগের স্থানীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ
বন বিভাগের দাবি অনুযায়ী, ২০২২ সালে ওই এলাকায় মোট ৩০ হেক্টর জমিতে ঝাউগাছ রোপণ করা হয়েছিল। গত শনিবার বিকেলে একদল ব্যক্তি খননযন্ত্র ব্যবহার করে সেখানে প্রবেশ করে ব্যাপকভাবে গাছ উপড়ে ফেলেন এবং মাটি কেটে বেড়িবাঁধ ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন। বন বিভাগ বলছে, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক নেতা আরিফ মীর, ছাত্রদল নেতা সাব্বির মীর ও মানিক মোল্লা—তিনজনের নাম সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে; এছাড়াও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি রয়েছেন।
কাউখালী বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল আহমেদ খান জানান, স্থানীয়দের দেয়া সংবাদ পেয়ে বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের বাধা দেন। কিন্তু অভিযুক্তরা উপজেলা প্রশাসন থেকে বন্দোবস্ত নেওয়া হয়েছে দাবি করে মাটি কাটা ও কাজ চালিয়ে নিয়েছিলেন। পরে জেলা কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে রাতে বন বিভাগ রাঙ্গাবালী থানায় জিডি করেন বলে জানানো হয়েছে।
প্রভাব ও পূর্ববর্তী ঘটনার তথ্য
বন বিভাগের নথি অনুযায়ী, একই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর ওই বনাঞ্চলে খননযন্ত্র ব্যবহার করে প্রায় ২৫ হাজার ঝাউগাছ নষ্ট করার ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমানে অভিযোগ থেকে বোঝা যাচ্ছে পুনরায় ওই ব্যক্তিরাই বনভূমি দখল ও পলি কেটে বেড়িবাঁধ তৈরির চেষ্টা করেছেন। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি সংবেদনশীল বলছেন কারণ স্থানটি সংরক্ষিত বনভূমি হিসেবে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র ও ক্ষুদ্রজীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- স্থান: কাউখালীর চরসাইনবোর্ড, রাঙ্গাবালী উপজেলা
- রোপণ করা জমির আয়তন (২০২২): ৩০ হেক্টর
- উপড়ে ফেলা গাছের সংখ্যা (অভিযোগ): ৪০০–৫০০ ঝাউগাছ
- পূর্বের নষ্ট গাছ (প্রতিবেদন): ২৫ হাজার (২০২৫ সালের ঘটনা)
সংরক্ষিত বনভূমি থেকে গাছ উপড়ে ফেলা ও মাটি কাটা স্থানীয় ভূমি ও জলবায়ু চরিত্রে পরিবর্তন আনতে পারে—বিশেষত হাতের নাগালে থাকা বেড়িবাঁধ ও চরাঞ্চলে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, যদি এই ধরনের কাজ অব্যাহত থাকে, তবে মাটি ক্ষয়-ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় মাছ ধরার ও চর বাসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বন বিভাগের প্রতিক্রিয়া ও আইনি পদক্ষেপ
বন বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেওয়ার পরও অভিযুক্তরা কাজ চালিয়ে নিয়ে যাওয়ায় রাতে জেলা কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে জিডি করা হয়েছে। জিডির পরে রাঙ্গাবালী থানায় সূত্রাগতভাবে তদন্ত চালানো হচ্ছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও থানার সঙ্গে সমন্বয় করে বনাঞ্চল পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।
| উপাদান | ডাটা |
|---|---|
| রোপণকৃত জমির আয়তন | ৩০ হেক্টর (২০২২) |
| এই ঘটনার অভিযোগিত গাছের সংখ্যা | ৪০০–৫০০ ঝাউগাছ |
| পূর্বের বড় ধরণের ক্ষতির বিবরণ | ২৫ হাজার গাছ নষ্ট (১৮ নভেম্বর ২০২৫) |
স্থানীয়দের অভিযোগ নিয়ে বন বিভাগের নথিতে জিডি থাকায় এখন পুলিশের তদন্ত ও প্রশাসনিক তদারকির মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অনেকে বলছেন, বনজ সম্পদ রক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুততর পদক্ষেপ না হলে পুনরাবৃত্তি ঘটতেই পারে।
রাঙ্গাবালী ও সমগ্র পটুয়াখালী অঞ্চলে সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলো উপকূলীয় প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করে; সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিপন্ন হতে পারে। বন বিভাগের তদন্ত ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত ঘটনা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।