ঘটনার সারসংক্ষেপ
বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় শতাধিক নিবন্ধিত জেলে দাবি করেছেন, ইলিশ প্রজননকাল (৮ থেকে ২৯ অক্টোবর) চলাকালে সরকারের সহযোগিতার জন্য বরাদ্দ করা ৪০ টন চালের মধ্যে মাত্র ৩৪ টন খাদ্যগুদাম থেকে উত্তোলন করা হয়েছে; বাকিটা ৬ টন আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
জেলের অভিযোগ ও চাহিদা
জেলেরা জানায়, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে মোট ১,৬০০ নিবন্ধিত জেলের জন্য চাল বরাদ্দ করা হয়েছিল—প্রতি জেলের জন্য ২৫ কেজি করে। কিন্তু তালিকায় নাম না থাকার অজুহাতে অনেককে খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, যারা চাল পাননি তাঁদের বরাদ্দ কোথায় গেছে তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
- জেলে খলিল জানিয়েছেন তাঁর ওয়ার্ডের অন্তত ৩৫ জন নিবন্ধিত জেলে চাল পাননি।
- নাশির মালের দাবি, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কমপক্ষে ৩০ জন নিবন্ধিত জেলেকে চাল দেওয়া হয়নি।
- মোট বরাদ্দ: ৪০ টন; খাদ্যগুদাম থেকে উত্তোলিত: ৩৪ টন; অনুপস্থিত/অভিযোগ: ৬ টন.
প্রশাসন ও ইউপি সদস্যদের প্রতিক্রিয়া
অভিযোগে নাম উল্লেখ করা আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, সব জেলের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেলও একই দাবি জানান। তবে বিতরণ কাজের এক সহায়তাকারী, নাম প্রকাশ করতে অস্বীকার করে বলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ৩৪ টন চালই উত্তোলন করেছেন এবং বাকিটা গুদামেই আছে—এমনটি তিনি স্থানীয়ভাবে উল্লেখ করেন।
“সব জেলের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে”
এ কথাটি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন সংবাদস্বীকারে বলেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্যের পাল্টা বক্তব্য
৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বশির হাওলাদার দাবি করে বলেছেন তার ওয়ার্ডের তালিকাভুক্ত ২৭০ জন জেলেকেই চাল দেওয়া হয়েছে এবং কাউকে খালি হাতে ফেরত পাঠানো হয়নি। এই দুটি ভিন্ন বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
কারওর অনুপস্থিতি ও তদন্তের দাবি
ভুক্তভোগী জেলেরা প্রশাসনিক ও স্থানীয় elected প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে লিখিত বা আনষঙ্গিক অভিযোগ দাখিলের দাবি করছেন। তাদের বক্তব্য—যদি বরাদ্দ সম্পূর্ণভাবে করা হয়ে থাকে, তাহলে যাদের কাছে তা পৌঁছায়নি তাদের বরাদ্দ কোথায় গেল তা পরিষ্কার করা উচিত। তারা বলেন, স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম বন্ধ করা যাবে না।
| বিষয় | পরিমাণ |
|---|---|
| মোট বরাদ্দ | ৪০ টন |
| উত্তোলিত | ৩৪ টন |
| অভিযোগিত অনুপস্থিত | ৬ টন |
| নিবন্ধিত জেলে | ১,৬০০ জন |
স্থানীয় জনগণ, বিশেষ করে জেলে সম্প্রদায়, এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও ন্যায্য সমাধান চান। ইলিশ প্রজননকাল ধরা পড়া সময়ের মধ্যে চলতি এই সহায়তা তাদের জীবিকা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—তাই বিতরণে অনিয়ম হলে ক্ষতিগ্রস্তদের ওপর তা দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলবে।
এই ঘটনার পরে স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদকে উভয়পক্ষের বিবরণ নিয়ে স্বচ্ছভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে—এমনটাই আশা করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। সরেজমিনে পরিস্থিতি, তালিকার মিল ও চালের লেনদেন সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে দ্রুত তথ্য প্রকাশ করা না হলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।
উপসংহার: আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের জেলেরা দাবি করছেন তাঁদের মধ্যে ন্যায্যভাবে চাল পৌঁছায়নি; অথচ প্রশাসনিক পক্ষ বিতর্কিত অভিযোগগুলো অস্বীকার করছে। স্থানীয়ভাবে স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত ছাড়া বিতর্কের সমাধান কঠিন হবে, এবং ইলিশ প্রজননকালের মতো সংবেদনশীল সময়ে জেলেদের সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।