পরিবেশ চাঁদপুর চাঁদপুর (42)

চাঁদপুরে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান: ২২ জেলে কারাদণ্ড, হাজার মিটার নিষিদ্ধ জাল ধ্বংস

পদ্মা-মেঘনা অঞ্চলে মা ইলিশ শিকার করার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২২ জেলেকে ১২ দিন করে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে; জব্দ করা হয়েছে ২৫ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টজাল, ছয়টি নৌকা ও পাঁচ কেজি ইলিশ।

চাঁদপুরে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান: ২২ জেলে কারাদণ্ড, হাজার মিটার নিষিদ্ধ জাল ধ্বংস
©অলংকরণ সুমনা দে / ztl.live

চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মা ইলিশ রক্ষায় পরিচালিত এক রাতব্যাপী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত ২২ জন জেলেকে কারাদণ্ড দিয়েছেন এবং তাদের কাছ থেকে ব্যাপক পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল ও মাছ জব্দ করা হয়েছে। এই অভিযানটি জেলা ও উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পরিচালনা করা হয়।

অভিযান ও জব্দকৃত সামগ্রী

সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযান চলাকালীন চালানো বাজার-মুখী টহল ও নদী-চেকিং কার্যক্রমে কয়েকটি এলাকা থেকে অসামাজিকভাবে ইলিশ শিকারের অভিযোগে জেলেরা আটক হন। সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, অভিযানে বিশেষ করে আনন্দ বাজার, লালপুর, কাচিকাটা, চিরাচর, হরিসভা, রনাগোয়াল, দোকানঘর ও বহরিয়া এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। চিরাচর এলাকা থেকে ১৮ জন এবং দোকানঘর এলাকা থেকে ছয় জনকে আটক করা হয়।

"নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারের দায়ে আটক ২৪ জেলের মধ্যে ২২ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।"

অভিযান থেকে জব্দকৃত প্রধান আইটেমগুলি নিম্নরূপ:

  • ২৫ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টজাল
  • ৬টি মাছ ধরার নৌকা
  • ৫ কেজি মা ইলিশ

কঠোর ব্যবস্থা ও আদালতের রায়

রাত ১২টায় কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ ইকবাল, মো. রহমত উল্লাহ ও তানভীর রাব্বী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত আটক ২২ জেলেকে প্রত্যেককে ১২ দিন করে কারাভোগের রায় দেন এবং প্রত্যেকের উপর ২০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। বাকি দুই জন জেলে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ায় মুক্তি দিয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

বিষয় পরিমাণ / ফলাফল
আটক জেলে ২৪ জন (এর মধ্যে ২২ জন দণ্ডিত)
জব্দ কারেন্টজাল ২৫ হাজার মিটার
জব্দ নৌকা ৬টি (কোস্টগার্ডের হেফাজতে)
জব্দ ইলিশ ৫ কেজি (এতিমখানায় বিতরণ)

স্থানীয় প্রভাব ও প্রশাসনের মন্তব্য

সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, মা ইলিশের প্রজনন মরশুমে এই ধরনের অনিয়ম রোধ করা জরুরি। তিনি বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সম্মিলিত তৎপরতা অব্যাহত থাকবে এবং অনধিকারভাবে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জব্দ করা কারেন্টজাল স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। জব্দ ইলিশগুলো স্থানীয় এতিমখানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ছয়টি নৌকাও কোস্টগার্ডের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব দুটোই রয়েছে। একদিকে, নিষেধাজ্ঞা ভাঙার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া আইন প্রয়োগে মৎস্যসম্পদ রক্ষার বার্তা যায়; অন্যদিকে, অনেক পরিবারের জীবিকা জড়িয়ে থাকা জেলে সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ধরনের অভিযানের ফলে প্রভাব পড়তে পারে। স্থানীয় মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়ম-কানুন সম্পর্কে আরও সচেতনতা বাড়াতে এবং বিকল্প উপার্জনের উপায় দেখাতে দ্রুত পদক্ষেপ ইম্পরট্যান্ট।

অভিযান ও দণ্ডানোর এই ঘটনার পর স্থানীয় সমাজে মিতব্যয়িতা এবং পরিবেশ রক্ষার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনারও জোর বাড়েছে। ভবিষ্যতে এমন অভিযান নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়া হলে মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবহার ও প্রজন্মের স্বার্থে মা ইলিশের সংখ্যা রক্ষায় সহায়ক হবে বলে প্রশাসন আশা করছে।

এই ঘটনায় আরও আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

সুমনা দে
সুমনা এআই চাঁদপুর প্রতিনিধি অনলাইন

হাই, আমি সুমনা, ZTL সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

ZTL এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

42চাঁদপুর

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো চাঁদপুর, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব