কাজের লক্ষ্য ও বর্তমান অবস্থা
মাগুরা জেলার মহাসড়কের নির্ধারিত ১৭ কিলোমিটার অংশে সড়কের উপরের আবরণ উন্নত করতে ডিবিএসটি (DBST) ও ডিবিএস (DBS) ওয়্যারিং কোর্সের নির্মাণকাজ চলছে। প্রকল্পটির কন্ট্রাক্ট মূল্য প্রায় ১৩ কোটি টাকা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, এই কাজের উদ্দেশ্য মূলত দুর্ঘটনা ঝুঁকি কমানো, যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং সড়কের স্থায়িত্ব বাড়ানো।
অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড কাজটি বাস্তবায়ন করছে। সূত্র জানায়, সড়কের এক পাশে কাজ সম্পন্ন হয়েছে; তবু ওই অংশ দিয়ে যান চলাচল না করে নির্মাণাধীন পাশটি ব্যবহার করা হওয়ায় চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে সাধারণ চালক ও যাত্রীদের ভোগান্তি হচ্ছিল এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে গেছে।
ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর বক্তব্য
কাজের দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধি ফরিদ খান ও সোহেল রানা জানান, অবহাওয়ার কারণে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। আবহাওয়া অনুকূলে এলে দ্রুত কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবকিছু শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বলেন, নতুন সারফেস সড়কের ঘর্ষণক্ষমতা বাড়াবে এবং পিচ্ছিলতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে, ফলে প্রথম দিকে কিছুটা ঝাঁকুনি ছাড়া চলাচল সহজতর হবে।
"সঠিক মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা হলে সড়কের স্থায়িত্ব বাড়বে, বারবার মেরামতের প্রয়োজন কমবে এবং সরকারি অর্থের অপচয় রোধে সহায়তা করবে,"—আসাদুজ্জামান।
সময়ের বাধ্যবাধকতা
প্রকল্পের মূল সমাপ্তি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবু সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা সম্ভবত আরও আগেই, অর্থাৎ নভেম্বর মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি আরও জানান, বৃষ্টির কারণে দেরি হওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক, তবে আবহাওয়া অনুকূলে এলে কাজের গতি বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও নিরাপত্তার চাহিদা
স্থানীয়রা জানান, এক পাশে কাজ শেষ হলেও অপর পাশ নির্মাণাধীন থাকায় যানবাহন ওই অংশেই বেশি প্রবণভাবে চলাচল করছে। নির্মাণাধীনে পথের uneven বৈশিষ্ট্য এবং নির্মাণ সামগ্রীর উপস্থিতি চালকদের নিয়ন্ত্রণে সমস্যা সৃষ্টি করছে। ফলে রাত বিকালে বা বৃষ্টির সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয়রা দাবি করেন, দ্রুত কাজ সমাপ্ত করে উভয় পাশ সর্বাত্মকভাবে চালু করতে হবে যাতে যানবাহনের নিয়মিত চলাচল নিরাপদ হয়।
প্রকল্পের সুবিধা — সংক্ষিপ্ত তালিকা
- সড়কের উপরিভাগের মান উন্নতি করবে।
- চাকা ও সড়কের ঘর্ষণ ক্ষমতা বাড়বে, পিচ্ছিলতা কমবে।
- দীর্ঘমেয়াদে মেরামতের প্রয়োজন কমবে ও সরকারি অর্থ সাশ্রয় হবে।
টাকা, দৈর্ঘ্য ও সময়সীমার সারসংক্ষেপ
| আইটেম | বিবরণ |
|---|---|
| প্রকল্প দৈর্ঘ্য | ১৭ কিলোমিটার |
| চুক্তিমূল্য | প্রায় ১৩ কোটি টাকা |
| নির্ধারিত শেষ সময় | ডিসেম্বর (প্রকৌশলীদের আশা: নভেম্বর) |
পরবর্তী করণীয়
স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা দ্রুত অবশিষ্ট অংশের কাজ শুরু করে চলাচলের জন্য উভয় পাশ খোলার ওপর জোর দিচ্ছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও বলেছে, আবহাওয়া অনুমত হলে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করে দেওয়া হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহে কাজের তৎপরতা বাড়লে সড়কটির ব্যবহারিক সুবিধা বাতলে উঠবে, আর তা না হলে চালক-যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে ওঠানো কঠিন হবে।
নোট: প্রতিবেদনে ব্যবহার করা তথ্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্রদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে।