দক্ষিণাঞ্চলের নদী-বেষ্টিত জেলা পিরোজপুরের নৌপথে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। জেলার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে কঁচা, বলেশ্বর, সন্ধ্যা, কালীগঙ্গা ও মধুমতি। এসব নদী জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়ালেও যোগাযোগ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নৌ-দূর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ: দ্রুত উদ্ধার সম্ভব নয়
জেলার সাতটি উপজেলার কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশনই ‘ক’ শ্রেণি-তে অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে প্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে পিরোজপুরবাসী বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, জেলায় প্রশিক্ষিত ডুবুরি দল বা আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম না থাকায় উদ্ধার অভিযান প্রায়ই বিলম্বিত হচ্ছে এবং মানবিক ক্ষতি বাড়ছে।
সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায় সোমবার (১৯ অক্টোবর) নাজিরপুরের শ্রীরামকাঠী-ভরতকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় ট্রলার ডুবির ঘটনা। সেই রাতে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে ট্রলার ডুবে যায়। ঘটনাস্থলে প্রথমে পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিস পৌঁছালেও ডুবুরি না থাকায় তারা উদ্ধারকাজ শুরু করতে পারেননি; পরে বরিশাল থেকে ডুবুরি এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ঘটনার সময় নিকটস্থ লোকজন উদ্ধার চেষ্টা চালালেও রাত দেরিতে ডুবুরি পৌঁছায় বলে নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার প্রক্রিয়া দেরিতে শুরু হয়।
“আমাদের জেলায় ফায়ার সার্ভিস আছে কিন্তু ডুবুরি দল নেই। সোমবার ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে রাত ৮টায় আর বরিশাল থেকে ডুবুরি আসে রাত ১০ টায়।”
প্রভাব ও দাবি
স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত ও কার্যকর উদ্ধার নিশ্চিতে পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করে নিজস্ব ডুবুরি দল গঠন এবং স্পিডবোট ও আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম সরবরাহ করা জরুরি। অনেকে মনে করেন, যদি জেলায় পর্যাপ্ত দক্ষতা ও সরঞ্জাম থাকত তাহলে প্রাথমিক উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা যেত এবং প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষতি অনেক কম হতো।
- নদীগুলো: কঁচা, বলেশ্বর, সন্ধ্যা, কালীগঙ্গা, মধুমতি — নদীবিপর্যয়ের ঝুঁকি বেশি
- ফায়ার স্টেশন: জেলায় কোনো স্টেশনই ‘ক’ শ্রেণিতে নেই
- সংশ্লিষ্ট সমস্যা: ডুবুরি-দল ও স্পিডবোটের অভাব, আধুনিক সরঞ্জামের অনুপস্থিতি, দীর্ঘ অপেক্ষা
স্থানীয়রা আরও জানান, জেলায় একটি রিভার ফায়ার স্টেশন নির্মাণের কথা থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে ফাইলবন্দি রয়েছে। নৌ দুর্ঘটনা বা আগুন লাগলে তাৎক্ষণিক কাজে লাগানোর মতো আধুনিক কোনো স্পিডবোট না থাকায় নিখোঁজ তালিকাও দীর্ঘ হয় এবং আগুনে ক্ষয়ক্ষতিও বাড়ে।
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| ফায়ার সার্ভিস শ্রেণি | জেলার ষাটের কোনো স্টেশনই ‘ক’ শ্রেণি নয় |
| ডুবুরি দল | জায়াগুলি এলাকায় নেই, বরিশাল থেকে আনতে হয় |
| স্পিডবোট ও আধুনিক সরঞ্জাম | অনুপস্থিত |
মানবিক আঘাত ও নিরাপত্তা সংকট
ডুবিতে নিখোঁজদের আত্মীয়-স্বজনেরা রাতভর অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। উদ্ধারের সময় বাধাগ্রস্ত হলে স্বজনদের আহাজারি দীর্ঘ হয় এবং মানসিক কষ্ট বাড়ে। একই সঙ্গে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের মানবিক ক্ষতি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় জনগণ, সামাজিক সংগঠন ও কিছু রাজনৈতিক প্রতিরোধী দাবি করেছেন—পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করা, জেলার প্রতিটি স্টেশনে প্রাথমিক ডুবুরি প্রশিক্ষণ চালু করা, এবং প্রতিটি নৌ-জোনে দ্রুতগামী স্পিডবোট স্থাপন করা। তারা মনে করেন এসব ব্যবস্থা হলে জরুরি সেবার গুণগত মান বাড়বে এবং জীবন রক্ষা সহজ হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; তাদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে পরবর্তী রিপোর্টে জানানো হবে।