শারদীয় দুর্গোৎসব ১৪৩৩ উদযাপনের সময় রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন উপজেলার পূজামণ্ডপ ও মন্দির পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, রাঙামাটি জেলা শাখা কর্তৃক গঠিত বিশেষ মনিটরিং সেল। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সারাদিনব্যাপী এই তদারকি কার্যক্রমে জেলার বহুসংখ্যক পয়েন্টে সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শিত এলাকা ও কার্যক্রম
মনিটরিং সেলের সদস্যরা কাপ্তাইয়ের লগ গেট, শিলছড়ি, ওয়াগ্গা, বড়ইছড়ি, বারঘোনিয়া, ত্রিপুরা সুন্দরী ও বাঙালহালিয়া বাজার পরিদর্শন করেন। এছাড়া রাজস্থলী উপজেলার ছাগলখাইয়া ও বেতবুনিয়ার বাজার এবং কাউখালীর ঘাগড়া এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ মন্দির ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করা হয়।
- কাপ্তাই — লগ গেটের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন
- শিলছড়ি ও ওয়াগ্গা — স্থানীয় মন্দির এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন তদারকি
- রাজস্থলী ও কাউখালী — বাজার সংলগ্ন মণ্ডপে জনসংখ্যা ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ
পরিদর্শনকালে মনিটরিং সেলের আহ্বায়ক স্বপন কুমার মল্লিক ও রবীন্দ্র লাল মাস্টার উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন সমিরন বড়ুয়া, কোষাধ্যক্ষ প্রভাতোষ দেব, তুষার কান্তি দে, যুগ্ম সদস্য সচিব সাধন দাস, নির্মলা দেওয়ান, শ্যামলী বিশ্বাস, অমৃতা ধর, অরুণ চৌধুরী, পরিমল রুদ্র, ছোটন চৌধুরী ও নিরু সীল।
“কাপ্তাই, কাউখালী ও রাজস্থলী উপজেলার সার্বিক পূজাপর্বের এই বিশেষ মুহূর্তকে স্মৃতির পাতায় ধরে রাখতে যাঁরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয় সকলের এই ভালোবাসা ও সম্মান আগামী দিনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা রক্ষায় পথচলাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।”
স্থানীয় প্রভাব ও প্রত্যাশা
উৎসবকালে নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় অনুভূতির সম্মান বজায় রাখাকে কেন্দ্র করে এমন মনিটরিং কার্যক্রমের গুরুত্ব স্থাণীয়ভাবে দেখা যায়। মন্দির ও পূজামণ্ডপ ঘিরে হাজারো মানুষ জমায়েত হওয়ার কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজিক সংগঠনের সমন্বিত নজরদারি প্রয়োজন। মনিটরিং সেলের পক্ষ থেকে যাত্রীসুবিধা, অগ্নি নিরাপত্তা, গুরতর অসামাজিক ঘটনার প্রতিরোধ এবং অসাম্প্রদায়িক ভাবনার টিকিয়ে রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এমন তদারকি তাদের উৎসব উদযাপনকে শান্তিপূর্ণ রাখা এবং ভ্রাতৃত্ববোধকে দৃঢ় করতে সহায়ক। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা জানায়, উৎসবকালীন পর্যটক ও ক্রেতাদের উপস্থিতি বাজারে অর্থনৈতিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
| পদবী | নাম |
|---|---|
| আহ্বায়ক | স্বপন কুমার মল্লিক, রবীন্দ্র লাল মাস্টার |
| সদস্য ও কোষাধ্যক্ষ | সমিরন বড়ুয়া, প্রভাতোষ দেব |
| অন্যান্য সদস্য | তুষার কান্তি দে, সাধন দাস, নির্মলা দেওয়ান, শ্যামলী বিশ্বাস, অমৃতা ধর, অরুণ চৌধুরী, পরিমল রুদ্র, ছোটন চৌধুরী, নিরু সীল |
উৎসবকালীন এই তদারকি কার্যক্রম স্থানীয় ঐক্য ও সমন্বয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে—এমনটাই আশাবাদ প্রকাশ করলেন পরিষদ। নগর ও গ্রামীণ এলাকার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে, নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করাতে স্থানীয় প্রশাসন, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ জরুরি থাকবে।
রাঙামাটির বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর এই মিলন ও সার্থক সহযোগিতা ভবিষ্যতে অসাম্প্রদায়িক রীতিনীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনিটরিং সেল আশা প্রকাশ করেছে।