নরসিংদীর মাধবদী উপজেলাধীন কালিবাড়ি ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলে বুধবার সন্ধ্যায় বয়লার বিকল হয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় কাজ করা দুইজন টেকনিশিয়ান দগ্ধ হয়েছেন এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেশীরা আহত আরও কয়েকজন থাকার কথা জানান।
ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা ও আগুন দমন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খবর পেয়ে প্রথমে মাধবদী বাজার ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকল কাজ শুরু করে। পরে নরসিংদী সদর থেকে আরও দুটি ইউনিট যোগ দিয়ে মোট চারটি ইউনিট প্রায় এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। নরসিংদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক শিমুল মো. রফি (পিএফএম) জানান, দ্রুত পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করা হয় এবং প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে দমনে সফলতা আসে।
আহত ও তাদের অবস্থান
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এই আগুনে ফয়সাল আহমেদ ও রুবেল মিয়া নামের দুই টেকনিশিয়ান খুবই দগ্ধ হয়েছেন। তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্ত করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এলাকাবাসী ও উপস্থিতরা আশঙ্কা করেন আহতদের সংখ্যা দুইজনের থেকে বেশি—কেননা ঘটনাস্থলে কয়েকজন আহত অবস্থায় ছিলেন।
- অগ্নিকাণ্ডের স্থান: মাধবদীর কালিবাড়ি, বিরামপুর এলাকার ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং মিল
- ফায়ার সার্ভিসের প্রতিক্রিয়া: মোট চারটি ইউনিট; আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় এক ঘণ্টা
- আহত: নিশ্চিতভাবে দুইজন গুরুতর দগ্ধ; প্রত্যক্ষদর্শীর মতে ১০-১২ জন আহতের সম্ভাব্যতা দাবি
"খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।"
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই দুর্ঘটনাকে নিয়মিত অনিরাপদ কাজের ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নরসিংদী জেলা বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, মাধবদীর শিল্পাঞ্চলে এমন অগ্নিকাণ্ড নতুন নয় এবং মিল মালিকদের সচেতনতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। তিনি শিল্পাঞ্চলের দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, এক প্রত্যক্ষদর্শী রাজু আহম্মেদ বলেন, বিকেল ৫টার দিকে বয়লারে লিকেজ ধরে মেরামতের কাজ চলাকালে বিকট শব্দের সঙ্গে আগুন ছড়ায়। তিনি জানান, নেভাতে এগিয়ে গেলে নিজেও দগ্ধ হন এবং মিল মালিকও আহত হন।
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী করণীয়
এই ধরনের শিল্পদপ্তরীয় দুর্ঘটনা মাধবদী এলাকার কর্মজীবী মানুষের জন্য বড় নিরাপত্তা সংকেত। নদীমুখে পানি ব্যবহার করে আগুন নেভানো নিয়ে এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন; তারা বলছেন, মাধবদী শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্রনদীর পানি দূষণে ভরপুর—তবুও জরুরি পরিস্থিতিতে তা ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই।
স্থানীয় প্রশাসন ও শিল্প মালিকদের দ্রুত:
- শ্রমিক নিরাপত্তা ও বয়লার রক্ষণাবেক্ষণের নিয়মকানুন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন,
- ফায়ার সেফটি প্রশিক্ষণ ও জরুরি পরিকল্পনা নিশ্চিত,
- শুধু প্রতিক্রিয়া নয়, নিয়মিত নিরীক্ষা ও তত্ত্বাবধান চালুর ব্যবস্থা নেওয়ার দিকে মনোযোগ দিতে বলা হয়েছে।
| বিষয় | উল্লেখ্য |
|---|---|
| এলাকা | মাধবদী, কালিবাড়ি |
| ফায়ার সার্ভিস ইউনিট | মোট ৪টি ইউনিট |
| প্রতিবেদনকৃত দগ্ধ | কমপক্ষে ২ জন গুরুতর; প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি ১০–১২ জন আহত |
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন ঘটনার পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতাকে নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন এবং আঘাতপ্রাপ্তদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন। তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুন লাগার সঠিক কারণ জানানো হবে বলে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য আছে।
স্থানীয় অর্থনীতি ও শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত এলে ওই শিল্পাঞ্চলের উৎপাদনশীলতা ও সমাজের স্থিতিশীলতাও রক্ষা পাবে—এটাই আশা করতে চায় মাধবদীর মানুষ।