পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে রোগপ্রতিরোধী তৎপরতা
পিরোজপুর পৌরসভা সোমবার (১৯ অক্টোবর) থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সাধারণ স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাসে মাঠপর্যায়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং মশক নিধন অভিযান শুরু করেছে। প্রথমদিনে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডিসি পাড়া এলাকায় খাল পরিষ্কার ও আশপাশের ঝোপঝাড় ফাঁকা করে লার্ভিসাইড ও এডাল্টিসাইড স্প্রে করা হয়।
অভিযান পরিচালনা ও উপস্থিতি
পরিচ্ছন্নতা কাজের সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও পিরোজপুর পৌরসভার প্রশাসক মাহমুদুর রহমান মামুন, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা বনী আমিন এবং পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম। এছাড়া পৌরসভার কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
কী কার্যক্রম করা হচ্ছে
অভিযানে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী কয়েকটি কার্যক্রমে। সেগুলো হলো—
- খাল ও খালে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা;
- বাড়ি-ঘরের আশপাশ থেকে ক্ষুদ্র পানি জমা অপসারণে মানুষকে অনুরোধ করা;
- ঝোপঝাড় ও অপ্রয়োজনীয় আবর্জনা পরিষ্কার করা;
- লার্ভিসাইড ও এডাল্টিসাইড স্প্রে করে মশানিধন কার্যক্রম চালানো।
"ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিরোধে পিরোজপুর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডেই দিন ও রাতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে,"
মাহমুদুর রহমান মামুন সংবাদকেও জানান, পৌর কর্তৃপক্ষ এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে এবং নাগরিকদেরও নিজ নিজ বাড়ি-আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের দায়িত্ব ও প্রশাসনের বার্তা
পৌর প্রশাসন বলেন, কেবলমাত্র পৌরসভার উদ্যোগ পর্যাপ্ত নয়; শহরের প্রতিটি পরিবারকে নিজ নিজ বাসস্থানের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে ও জমে থাকা পানি নষ্ট করতে হবে। অভিযানের সময় উপস্থিত স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছিল ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার দ্রুত মশা নিয়ন্ত্রণকরণে পর্যাপ্ত কাজ হচ্ছে কি না—এই নিয়ে। প্রশাসন পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে9টি ওয়ার্ডে দিনরাত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
সংক্ষিপ্ত তথ্য
| আইটেম | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযান শুরু | ১৯ অক্টোবর |
| প্রথম লক্ষ্যমাত্রা ওয়ার্ড | ৫ নম্বর (ডিসি পাড়া) |
| সংযুক্ত কর্মসূচি | খাল পরিষ্কার, লার্ভিসাইড ও এডাল্টিসাইড স্প্রে |
| সমগ্র কভারেজ | ৯টি ওয়ার্ডে সচল পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম |
মাঠকর্মে অংশ নেওয়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা খালের তলদেশের লাগর ও আবর্জনা উঠিয়ে নিচ্ছেন, আর একই সঙ্গে মশার বংশবৃদ্ধি রোধে আশপাশের ছোট ছোট পানি জমা তুলে দিচ্ছেন। প্রশাসনের অনুশাসন ও স্থানীয় নেতৃত্বের আহ্বানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন না হলে এই ধরনের অভিযান পর্যাপ্ত ফল দেবে না।
পিরোজপুর শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও মশার প্রজনন কেন্দ্র ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি—এ কথা পুলিশের প্রায় উপস্থিতি ও পৌরকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায়। প্রশাসন আশা ব্যক্ত করেছে, ধারাবাহিক পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিই ডেঙ্গু ঝুঁকি কমানোর অন্যতম পথ।
অভিযানের বিষয়ে সরাসরি পরিসংখ্যান বা সংক্রমণের নির্দিষ্ট সংখ্যা রিপোর্ট করা হয়নি; তবে স্থানীয় তিন প্রধান কর্মকর্তা ও উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীর বরাত দিয়ে পৌর প্রশাসন বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, নাগরিক নিজস্ব দায়িত্ব পালন করলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকরি সাফল্য সম্ভব।
রিপোর্ট: সুমাইয়া জামান
পিরোজপুর থেকে