ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নির্মাণাধীন ছাত্র হল-২ ভবনে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাঁশের মাচা ভেঙে এক শ্রমিক আহত হয়েছেন। ওই সময় প্লাস্টারের কাজ করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার বর্ণনা ও অবস্থা
স্থানীয় সূত্র ও উপস্থিত শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালেSeveral শ্রমিক বাঁশের মাচায় উঠে ভবনটির দেয়ালে প্লাস্টারের কাজ করছিলেন। হঠাৎ বাঁশের বাঁধন ছুটে মাচার একটি অংশ ভেঙে গেলে দুই শ্রমিক চতুর্থ তলা থেকে নিচে পড়ে যান। তাঁদের মধ্যে রসুল নামের একজন আহত হয়; অন্য জন বাঁশের সঙ্গে ঝুলে থেকে নিজেকে রক্ষা করেছেন বলে জানা গেছে। পরে আহত শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন যে কাজ চলাকালীন তাঁদের কেউ নিরাপত্তা বেল্ট ব্যবহার করছিল না এবং মাথায় হেলমেটও ছিল না। শ্রমিকদের দাবি, মাচাটি যথাযথভাবে বাঁধা ছিল না—এর ফলে হঠাৎ ভেঙে পড়ে ঘটনাটি ঘটে।
“আহত শ্রমিককে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিনি তেমন গুরুতর আহত হননি। নিরাপত্তার বিষয়ে শ্রমিকেরা কখনো কোনো অভিযোগ করেননি। নিরাপত্তার জন্য সরঞ্জাম থাকলেও তাঁরা ব্যবহার করছেন না। তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন করা হয়।”
এ মন্তব্যটি করেছেন প্রকল্প প্রকৌশলী মুন্না আহমেদ, যারা জানান যাতে শ্রমিকদের জন্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মালেক মিয়া বলেন, প্রশাসন বহুবার সতর্ক করলেও শ্রমিকরা নির্দেশনা মানছেন না; প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কন্ট্রাকশন ফার্ম মাইশা কনস্ট্রাকশন-ও দাবি করেছে নিরাপত্তা সামগ্রী সরবরাহ করা হলেও শ্রমিকগণ তা ব্যবহার করেন না।
প্রতিবর্তমান নিরাপত্তাহীনতার ইতিহাস
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণকাজের সময় নিরাপত্তাহীনতা নতুন নয়। সূত্রে আছে পূর্বেও প্রাণহানি ঘটেছে। নিম্নে উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা:
- ২০২২ সালের ২ ডিসেম্বর — দ্বিতীয় প্রশাসন ভবনে পাইলিং কাজের সময় মো. ওবাইদুর রহমান (৪০) নিহত হন।
- ২০২০ সালের ১৯ অক্টোবর — ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের নির্মাণাধীন ভবন থেকে মনিরুল ইসলাম (২৪) নামের এক শ্রমিক পড়ে মারা যান।
| তারিখ | ঘটনা | ফলাফল |
|---|---|---|
| ২০২৬-১০-২১ | ছাত্র হল-২ ভবনে মাচা ভেঙে শ্রমিক আহত | আহতকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে |
| ২০২২-১২-০২ | পাইলিং কাজের সময় শ্রমিক নিহত (ওবাইদুর রহমান) | মৃত্যু |
| ২০২০-১০-১৯ | নির্মাণাধীন ভবন থেকে শ্রমিক পড়ে মৃত্যু (মনিরুল ইসলাম) | মৃত্যু |
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী প্রশ্ন
ইউনিভার্সিটির অবকাঠামো নির্মাণ কার্যক্রম কুষ্টিয়ার জনজীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে—বিশেষত যখন সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে শ্রমিক নিরাপত্তা ও তদারকি। মাচা ভাঙার এই ঘটনার ফলে কয়েকটি প্রশ্ন উঠেছে যা স্থানীয় প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও কন্ট্রাক্টরকে অবিলম্বে বিবেচনা করতে হবে:
- নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রদান এবং প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর তদারকি আছে কি না?
- কিন্তু যেসব শ্রমিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন না—তার কারণ কী: প্রশিক্ষণের অভাব, তত্ত্বাবধায়কের অনুপস্থিতি, নীতি-প্রয়োগে শিথিলতা, নাকি অন্য কোনও কারণ?
- ঘটনার পুনরাবৃত্তিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রতিষ্ঠানের সংহত পরিকল্পনা আছে কি না?
স্থানীয় কর্মী ও আশপাশের সাধারণ মানুষ মনে করছেন, নিয়মিত তত্ত্বাবধান ও শ্রমিকদের জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ছাড়া ভবিষ্যতে আরও গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশাসনিক সূত্র জানায়, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে তা বাস্তবায়ন কতটা হচ্ছে—এ বিষয়েই মূল সমস্যাটি নিহিত।
এই ঘটনার পরে বিশ্ববিদ্যালয় ও কনস্ট্রাকশন কর্তৃপক্ষ কী ধরনের বাস্তব পদক্ষেপ নেবে, তা কুষ্টিয়ার সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে নজরদারির বিষয়। কর্তৃপক্ষ থেকে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা ও ঘটনা তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষায় স্থানীয়রা রয়েছেন।
রিপোর্ট: মধুমিতা দাশগুপ্ত, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি, ZTL