নাজিরপুর: জেলা সদরের নয়, নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী বন্দর ফেরিঘাটে গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন গৃহবধূ রীনা বেপারী (৩৯)। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার মধুরাবাদ এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে উদ্ধারকারী দল।
নিহত রীনা বেপারী নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভরতকাঠি গ্রামের শংকর বেপারীর স্ত্রী। ঘটনাটি ওই অঞ্চলের মানুষ ও উদ্ধার কর্মীদের মধ্যে শোক ছড়িয়ে দিয়েছে।
দুটি ধাপে উদ্ধার — প্রথম শিশুর, পরে রীনার দেহ
স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে জানা যায়, ট্রলারডুবির ঘটনার রাতেই একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন রীনা বেপারী। বুধবার সকালে মধুরাবাদ এলাকার নদীতে ভাসতে থাকা এক মৃতদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহটি উদ্ধার করে এবং পরে তা শনাক্ত করা হয়।
পিরোজপুর জেলা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক রায়হানুল আশরাফ জানান, ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় লোকজনের যৌথ প্রচেষ্টায় বুধবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
"দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অবহেলা বা গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ঘাটের ইজারাদারদের কোনো অবহেলা থাকলে ইজারা বাতিলসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমা তার অফিস থেকে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়ার কথা জানান।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও কার্যক্রম
ঘাট এলাকায় নিয়মিত যাত্রী পরিবহন থাকায় মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিষয়টি নিয়মিত উদ্বেগের। প্রতিবেশীরা বলছেন, ছোটখাটো ঢেউ ও কড়াকড়ি মৌসুমে ফেরি-ট্রলারের ভাড়া ও লোডিং-এর মান নিয়ন্ত্রণে ত্রুটি থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। নিহত রীনার গ্রামের মানুষ বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন না হলেও তিনি পরিবারের কষ্ট ভাগাভাগি করতেন; তাদের পরিবারের মানুষের মধ্যে শোক ছড়িয়ে পড়েছে।
- উদ্ধারকারী সংস্থা: ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়রা।
- স্থান: শ্রীরামকাঠী বন্দর ফেরিঘাট ও মধুরাবাদ এলাকা, নাজিরপুর উপজেলা।
- সময়: বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল—মরদেহ উদ্ধার।
তদন্ত ও সম্ভাব্য ব্যবস্থা
উপজেলা প্রশাসন ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে। তদন্তে যদি বোঝা যায় যে ঘাটের ইজারাদার বা নৌযান পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের কোনো রকম অবহেলা বা গাফিলতি ছিল, তাহলে প্রশাসন ইজারা বাতিলসহ অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। এছাড়া তদন্তকারীরা উদ্ধারের সময় ও ঘটনাস্থলের সাক্ষ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করছে।
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও জানিয়েছে যে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানা গেলে যাদের দায় প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়ায় এখনও কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি।
কেন জরুরি—স্থানীয় প্রেক্ষাপট
নদী-নৌপথেই এই অঞ্চলের মানুষের চলাচল প্রধানত নির্ভরশীল। তাজা তথ্য ও নিশ্চিত তদন্ত ছাড়া পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার উপস্থিতি এবং ঘাট-নিয়মকানুনের কার্যকারিতা—এসব ইস্যু উত্থাপন করেছে এই দুর্ঘটনা।
| অনুসন্ধান ধাপ | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| মরদেহ উদ্ধার | রীনা বেপারীর দেহ উদ্ধার ও শনাক্তকরণ সম্পন্ন |
| প্রাথমিক তদন্ত | উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে |
| সম্ভাব্য ব্যবস্থা | অবহেলা প্রমাণিত হলে ইজারা বাতিল ও আইনানুগ ব্যবস্থা |
এ ঘটনার প্রভাব এখানকার নৌপরিবহন নীতির ওপরও প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা প্রশাসনকে দ্রুত ও প্রকাশ্য নেতার প্রতিশ্রুতি চান যাতে ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং প্রতিবেশীরা নিরাপদে নদীপথ ব্যবহার করতে পারে।
এই প্রতিবেদনের সময় উদ্ধারকৃত মরদেহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তদন্ত বর্তমানে চলছে এবং তদন্তে কোনো নতুন তথ্য উঠে এলে তা অনুসরণ করে প্রতিবেদনে আমরা স্থানীয়রা ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ তুলে ধরব।
রিপোর্ট: সুমাইয়া জামান, পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি, ZTL