দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ৮ নম্বর মাহমুদপুর ইউনিয়নের চালনিপাড়া গ্রামে সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে সাপের আক্রমণে লোগেন হাসদা (৫৫) নামে এক সাপুড়ের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাছান সালাউদ্দিন মাসুম বিষয়টি বিকালে নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয়রা জানান, সকাল আড়াইটে নয়টার দিকে সাপ খেলা দেখানোর উদ্দেশ্যে বাড়িতে রাখা সাপের বাক্স থেকে সাপ বের করার সময় একটি মাছাওলি সাপ তাকে কামড়ায়। আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা এবং প্রতিবেশীরা তাকে দ্রুত নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দুর্ঘটনাবশত তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পরিচয় ও পেশাগত ইতিহাস
মৃত লোগেন হাসদা ওই গ্রামের মৃত শংকর হাসদার ছেলে। স্থানীয়রা তাকে ‘পাগল’ নামে চেনতেন। প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি সাপ খেলা দেখাতেন ও ওঝার কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার নেপথ্য কারণ জানতে স্থানীয়রা বিস্মিত।
স্থানীয় নেতার মন্তব্য ও প্রাথমিক তত্ত্ব
মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাছান সালাউদ্দিন মাসুম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাপ কামড়ের পর প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকায় তাকে দিনাজপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়, সেখানে পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
চালনিপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, লোগেন দীর্ঘ সময় ধরে সাপ নিয়ে কাজ করায় অনেকের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন। হয়ত অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও সঠিক প্রতিকারের অভাব, তাত্ক্ষণিক অ্যান্টিভেনমের অনুপস্থিতি বা সাপের প্রকৃত প্রজাতি সম্পর্কে ভুল ধারণার কারণে এই মৃত্যু ঘটেছে—স্থানীয়রা এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
- সময়সূচি: সকাল প্রায় ১০টার দিকে সাপের বাক্স থেকে সাপ বের করার সময় কামড়
- প্রাথমিক চিকিৎসা: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি, পরে রেফার
- চিকিৎসাসমূহ: দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
স্বাস্থ্যগত প্রেক্ষাপট ও সতর্কতা
সাপ কাটা হলে দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা না পেলে জটিলতা ঘটতে পারে। বিশেষত বিষধর সাপের কামড় হলে সময়মতো অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ জরুরি। গ্রামাঞ্চলে অনেক সময় দ্রুত রেফার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাব দেখা যায়। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও প্রশিক্ষণ থাকা না থাকলে বিপদ বাড়ে—এমনটি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আগেও বলেছিলেন।
সামাজিক প্রভাব
স্থানীয়দের মতে লোগেন হাসদার মতো সাপখেলা দেখানো শিল্পীরা গ্রামগুলোতে লোকসংযোগ ও বিনোদনের একটি অংশ। তাদের আয় ও জীবিকা স্বনির্ভরতার পাশাপাশি জনগণের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এমন জনজড়িত পেশার জন্য প্রশিক্ষণ, সুরক্ষা সরঞ্জাম ও জরুরি চিকিৎসা প্রবাহ বিধান করলে ভবিষ্যতে অনার্ধ এড়ানো যেতে পারে।
ঘটনার সময়সূচি (সারাংশ)
| সময় | ঘটনা |
|---|---|
| সকাল প্রায় 10:00 | সাপের বাক্স থেকে সাপ বের করার সময় কামড় |
| প্রাথমিক | উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয় |
| পরে | দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার; সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু |
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন বলে স্থানীয় মানুষ মনে করছেন। ঠিক কোনো ধরনের প্রক্রিয়া বা তদন্ত চলছে কি না—এ বিষয়ে এখনই জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনাটি স্থানীয়দের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে—বিশেষত যারা পশু পরিচর্যা বা বনজ প্রাণীর সঙ্গে নিয়মিত কাজ করেন, তাদের দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা-সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রতিবেদন: সুব্রত নন্দী, দিনাজপুর প্রতিনিধি, ZTL