দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সড়কে গাছ ফেলে স্টপেজ সৃষ্টি করে চারটি যানবাহন থেকে লুটপাট করার অভিযোগে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি)। রাতের ওই হামলার পর থেকে ঘটনার তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী; ধারাবাহিক অভিযান শেষে গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থল ও সময়
পুলিশের বর্ননায়, ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয় নবাবগঞ্জ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের জামালপুর মৌজায় নবাবগঞ্জ-ভাদুরিয়া পাকা সড়কে। সময়সূত্রে জানা যায় ঘটনাটি ঘটেছে ১৯-২০ অক্টোবরের মধ্যে রাতের দিকে; পুলিশিভুক্ত প্রতিবেদনে রাত প্রায় সওয়া ১টা থেকে পৌনে ৩টার মধ্যে এ ঘটনাগুলি সংঘটিত হওয়া উল্লেখ আছে। অভিযুক্তরা সড়কে বাধা সৃষ্টি করে যান চলাচল আটকিয়ে চালক ও যাত্রীদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মালামাল লুট করে।
গ্রেপ্তার ও তদন্তের প্রক্রিয়া
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও ডিবি রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় তথ্য প্রযুক্তি ও স্যুপারিশভিত্তিক তদন্ত চালিয়ে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর থেকে অভিযান শুরু করে গ্রেপ্তার কার্যক্রম চালানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত মালামাল ও জব্দকৃত আলামত মামলায় প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে উদ্ধৃত করা হয়েছে।
- গ্রেপ্তার সংখ্যা: ৮ জন
- উদ্ধারকৃত মালামাল: ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও দেশীয় অস্ত্ৰ
- উদ্ধারকৃত মালামের আনুমানিক মূল্য: প্রায় ১২ লাখ টাকা (পুলিশি প্রাথমিক অনুমান)
উদ্ধারকৃত জিনিসপত্র
পুলিশ বলেছে যে অভিযানে লুট করা বিভিন্ন মালামালসহ ডাকাতদের ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র পাওয়া গেছে। উদ্ধার তালিকায় উল্লেখযোগ্য ছিল:
- দুটি এইচপি ল্যাপটপ
- বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন — ইনফিনিক্স, অপো, ভিভো, অনার, স্যামসাং
- একটি ম্যাক্সটেল বাটন ফোন
- একটি চাপাতি ও একটি ছুরি
গ্রেপ্তারদের বিবরণ
পুলিশি বিজ্ঞপ্তি ও প্রেস ব্রিফিংয়ে গ্রেপ্তারদের নাম, বয়স ও আবাসিক এলাকার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেগুলো নিম্নরূপ:
| নাম | বয়স | আবাসিক এলাকা |
|---|---|---|
| মো. শাকিল সরকার | ২৬ | সাদুল্লাপুর, গাইবান্ধা |
| মো. রুহুল আমিন | ৩৫ | সাদুল্লাপুর, গাইবান্ধা |
| মো. রাশেদ মিয়া (রাশেদুল) | ৩০ | পীরগঞ্জ, রংপুর |
| মো. রবিউল প্রধান (রুবেল) | ৩৫ | পীরগঞ্জ, রংপুর |
| মো. সাজ্জু মিয়া | ৫৩ | পীরগঞ্জ, রংপুর |
| মো. আরিফুল ইসলাম (চেয়ারম্যান) | ৪২ | পীরগঞ্জ, রংপুর (তরব মওজা এলাকা) |
| মো. মিরাজ মিয়া | ২৬ | হলদিবাড়ী প্রধানপাড়া, রংপুর |
| মো. শাহিন মিয়া | ৩০ | নাসিরাবাদ কলোনি, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা |
পুলিশি বক্তব্য ও পরবর্তী ব্যবস্থা
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা ব্রিফিংয়ে জানান, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং যারা আরও জড়িত তাদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশেরও দাবি, প্রযুক্তিগত তথ্য ও মোবাইল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করা হবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও ভিক্ষুতা প্রতিরোধে এলাকায় অতিরিক্ত টহল বাড়ানোর বিষয়টিও স্থানীয় প্রশাসনের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। এছাড়া প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধারের তথ্য পরিবারের ক্ষতিপূরণ বা হাইকোর্টের আদেশের উপাদান হিসেবে কাজে লাগতে পারে বলেও জানা গেছে।
নজির হিসেবে বলার মতো বিষয় হচ্ছে, রাতের অন্ধকারে সড়ক অবরোধ করে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর জন্য নিরাপত্তা সংকট বহুগুণ বাড়ায়। স্থানীয়ভাবে চলমান এ ঘটনার পরে চালক, কুরিয়ার সার্ভিস ও যাত্রীরা সতর্ক রয়েছেন এবং পুলিশও ড্রাইভার-প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
ঘটনার তদন্ত চলমান; পুলিশ মামলাসহ প্রতিটি গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে এবং অপরাধীদের সম্পূর্ণ জাল খুঁজে বের করে দায়ের করা মামলা প্রসঙ্গে আরও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সুব্রত নন্দী, দিনাজপুর প্রতিনিধি