বকশীগঞ্জ (জামালপুর) থেকে: ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান গত রোববার সন্ধ্যায় জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় যান এবং সেখানে একাধিক পুজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে কোথাও কোন শঙ্কা নেই এবং এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে।
পরিদর্শন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বকশীগঞ্জে এবছর মোট ১৭টি মন্দির ও পুজা মন্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় আছে বলে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পরিদর্শনকালে ডিআইজির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর জেলা পুলিশ সুপার ফারহানা ইয়াসমিন, দেওয়ানগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুনাইদ আফ্রাদ, বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন এবং উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ কমিটির প্রতিনিধিরা।
ডিআইজি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের নির্দিষ্ট করে বলেন:
“দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে কোথাও কোন শঙ্কা নেই। দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশের গোয়েন্দা সদস্য ছাড়াও অন্যান্য বাহিনীর গোয়েন্দা সদস্যরাও মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।”
যৌথ চেকিং ও সামাজিক অংশগ্রহণ
পরিদর্শনকালে পুলিশ প্রশাসন, গ্রাম পুলিশ, আনসার সদস্যরা এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) নিরাপত্তা ব্যাবস্থায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে—এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র পাহারা নয়; গোয়েন্দা তথ্য-সংশ্লিষ্ট সমন্বয়ও জোরদার করা হয়েছে যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেয়া যায়।
- স্থানে স্থানে চেকপোস্ট এবং রূপায়ণ পল্লীভিত্তির পরিষেবায় পুলিশ ও আনসার-পেট্রোলি নিয়োজিত।
- উপজেলার পুজা কমিটিগুলো স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও সুশীল সমাজের সঙ্গে মিলিয়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
- গণজমায়েত থেকে আগত মানুষের নিরাপদ চলাচল এবং দর্শনার্থীদের বিশৃঙ্খলা রোধে কড়াকড়ি করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও অগ্রগতি
বকশীগঞ্জে এমন উচ্চ পর্যায়ের পরিদর্শন স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবশান্তি নিশ্চিতকরণে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর উপস্থিতি শুধুই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নয়, বরং মানসম্পন্ন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনাও সহজ করে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পুজা উদ্যোক্তারা ইতিমধ্যে পুলিশি নিরাপত্তা দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
| প্রতিষ্ঠান | মূল ভূমিকা |
|---|---|
| জেলা পুলিশ | গণতান্ত্রিক চেকিং, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, কালোবাজার রোধ |
| এসআরবি ও বিজিবি | গোপনীয় গোয়েন্দা কর্মসূত্র ও সীমান্তরক্ষায় সমন্বয় |
| আনসার/গ্রাম পুলিশ | স্থানীয় পল্লী পর্যায়ে পাহারা ও কমিউনিটি লিংক |
পুলিশ সুপার ফারহানা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় কমিটিগুলোকে নিরাপত্তা নির্দেশনা, জরুরি যোগাযোগ নম্বর ও কর্মপরিকল্পনা সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি বলেন যে, প্রয়োজনে অতিরিক্ত বাহিনীও মোতায়েন করা হবে।
এদিকে, রোববারের পরিদর্শনে উপস্থিত পুজা উদযাপন কমিটির নেতারা ডিআইজি ও অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে দর্শনার্থীদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, উৎসবমুখর এই সময়ে প্রশাসনের তৎপরতা বজায় থাকলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা হবে না এবং জনজীবন স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকবে।
উৎসবকালের এমন সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ময়মনসিংহ রেঞ্জের কৌশলগত উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা প্রতিবছর বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রয়োগ করা হয়। স্থানীয়দের জন্য এখন অপেক্ষা থাকবে উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং প্রশাসনের নিশ্চয়তামূলক তৎপরতার অব্যাহত থাকা—যা সাম্প্রতিক পরিদর্শনে আরোপিত গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ।
রিপোর্টার: ময়মনসিংহ প্রতিনিধি, ZTL