জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার একটি গ্রামে গত মঙ্গলবার সকালে এক পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এলাকার এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম জানা গেছে—আজিজুল ইসলাম (৩২)। শিশুটির মা বাদী হয়ে পাঁচবিবি থানায় মামলা করেছেন এবং আটক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনা ও গ্রেপ্তার—পুলিশি তথ্য
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় শিশুটি বাড়ির সামনে স্থানীয় এক শিশুর সঙ্গে খেলছিল। পাশাপাশি অভিযুক্ত আজিজুল নিজের মেয়েকে দোকানে পাঠিয়ে দিয়ে ভুক্তভোগী শিশুটিকে নিজের শোয়ার ঘরে ডেকে নেন। সেখানে তাকে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়। শিশু চিৎকার করলে অভিযুক্ত তাকে ছাড়িয়ে দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি জানতে চান।
স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে। পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তামবিরুল ইসলাম এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন:
“শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আটক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
ঘটনাটি পাড়ায় ভীতির ছড়ানো ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পরিবার ও প্রতিবেশীরা শিশুটি দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসায় পরিস্থিতি রোধ পেয়েছে বলে জানান। ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্তকে বাধা দিলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে।
- ভুক্তভোগীর বয়স: ৫ বছর
- অভিযুক্ত: আজিজুল ইসলাম, ৩২ বছর
- স্থল ও থানা: পাঁচবিবি উপজেলা, পাঁচবিবি থানা
- প্রধান আইনগত পদক্ষেপ: মা বাদী, মামলা দায়ের, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ও আদালতে পাঠানো
আইনি প্রক্রিয়া ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা
পাঁচবিবি থানার মাধ্যমে মামলা রুজু হওয়ায় এখন বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুলিশ আটককৃতকে আদালতে পাঠানোর তথ্য নিশ্চিত করেছে; পরবর্তী শুনানি ও তদন্ত প্রক্রিয়া এখান থেকে বিচার বিভাগীয় নিয়ম অনুযায়ী চালিত হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশি বিভাগের কাছ থেকে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল ও আদালতে অভিযোগ আরোপ করা হবে।
অভিযোগটির প্রকৃতি এবং ভুক্তভোগীর বয়স বিবেচনায় প্রশাসন, সমাজ ও পরিবার—তিনটি স্তরের সমন্বিত কার্যক্রম জরুরি। স্থানীয়রা বলেছে, ঘটনার পরে তারা শিশু ও পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে, এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান তাঁদের।
স্থানীয় প্রভাব ও পরামর্শ
এ ধরনের ঘটনা এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিন্নধর্মী উদ্বেগ সৃষ্টি করে—বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা বজায় রাখার ব্যাপারে। পরামর্শমূলকভাবে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সক্রিয় নাগরিকদের উচিত:
- শিশুদের আয়হীন সময়ে নিরীক্ষণ বাড়ানো এবং অপরিচিত বা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের কাছে শিশুদের একা না যেতে দেওয়া।
- পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের ব্যবস্থা নিশ্চিত রাখা।
- শিশু-স্বাস্থ্য কেন্দ্রীয় বা বিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা।
প্রতিবন্ধকতা বা সহায়তার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে স্থানীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, সরকারি শিশু সুরক্ষা সংস্থা ও পুলিশি বিভাগে অবিলম্বে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত ও আদালতের নির্দেশ অনুসারে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আশপাশের এলাকাবাসী এবং পরিবারভুক্তরা বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশুর সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন এবং দ্রুত ও ন্যায্য বিচার দাবি করেছেন।