গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পুলিশের অভিযান চালিয়ে তিনজন জুয়ার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং নগদ অর্থ ও জুয়ার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার রাতে পৌরসভার মাঝামাঝি অঞ্চলে পরিচালনা করা হয়।
রাতো-রাতি অভিযান ও গ্রেফতার
সুন্দরগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, পৌনেঃ ১১টাটার দিকে একটি গোপন সংবাদে পুলিশ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান নির্দেশনায় সঙ্গীয় ফোর্স পৌরসভার পাটবাজারের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের দক্ষিণপাশে অভিযান চালায়।
অভিযানে প্রথমে কয়েকজন ঘনীভূত জায়গা থেকে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ দুই তফসিল ধরে আটক করতে সক্ষম হয়। পরে মোট তিনজনকে গ্রেফতার করে থানায় নেয়া হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও কিছুজন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় ও মোকদ্দমা
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
- মো. টুটুল সরকার (৫০), বামনজল মৌজার স্থায়ী বাসিন্দা, মৃত হেকমত উল্লাহর ছেলে
- মো. এনামুল হক (৫০), গোপালচরণ গ্রামের বাসিন্দা, মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে
- অসিম কুমার সরকার (৫০), জরমনদী গ্রামের বাসিন্দা, দহবন্দ ইউনিয়ন, মৃত বিজয় চন্দ্র সরকারের ছেলে
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইন মোতাবেক থানায় মামলা করা হয়েছে এবং পরে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
জব্দকৃত সামগ্রী ও পরিস্থিতি
অভিযানে ঘটনার স্থান থেকে বিভিন্ন জুয়ার সরঞ্জামাদি ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। পুলিশসূত্রে যা জব্দ করা হয়েছে তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | পরিমাণ |
|---|---|
| নগদ টাকা | ১৬,০৫ টাকা |
| নতুন তাস প্যাকেট | ৪টি |
| খোলা তাস | ১০৫টি |
জব্দ করা মালামালের মধ্যে নগদ টাকার পরিমাণ ও তাস-প্যাকেটগুলো মূল প্রমাণ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি সনাক্ত করে ঘটনাস্থল থেকে আরও কয়েকজন পালিয়ে গেছে—তাদের ধরার চেষ্টা চলছে বলে কর্মকর্তারা জানান।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
সুন্দরগঞ্জে জুয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয়রা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। কেউ কেউ বলেন, এনিয়ে এলাকার সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা হচ্ছে—কিন্তু অপর দিকে জানানো হয়, রাতে এমন কার্যকলাপে স্থানীয় জনমানুষও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। জুয়া শুধুমাত্র আইনগত বিষয় নয়; এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন।
পুলিশ প্রশাসন বলেছে, নিয়মিত এবং লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান অব্যাহত থাকবে যাতে পাবলিক-অর্ডার নিশ্চিত করা যায় এবং অপরাধদমনে উৎসাহ সৃষ্টি হয়। এছাড়া পালিয়ে যাওয়া অভিযুক্তদের ধরার জন্য তথ্য-ভিত্তিক অনুসন্ধান চলছে।
আইনগত ব্যবস্থা ও পরবর্তী ধাপ
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশের কাছ থেকে জানা গেছে, তদন্তকারী কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল, জব্দকৃত জিনিসপত্র এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তার ও পর্যায়স্থ অপরাধীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাবেন।
এ ঘটনার মাধ্যমে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশের পাঠ হলো—গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বলিষ্ঠ ও দ্রুত ব্যবস্থা নিলে অপরাধ দমন সম্ভব। সুন্দরগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি: কানিজ সাত্তার