চুয়াডাঙ্গায় সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি চলে বলে দাবি করে জেলা শাখা সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা। বুধবার (২১ октября) সকাল ১১টায় জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও সংসদ পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য ও দাবি
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমীর ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. মাসুদ পারভেজ রাসেলসহ জেলা পর্যায়ের অন্য শীর্ষ নেতারা। তারা দাবি করেন যে সার ডিলারশিপ বণ্টনের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষিত হচ্ছে এবং অসচ্ছ উপায়ে কেবল নির্বাচিত বা পরিচিত ব্যক্তিদের দিকেই সুবিধা দিচ্ছে।
বক্তারা বলেন, এই ধরনের অনিয়ম প্রান্তিক কৃষকদের স্বার্থের বিরুদ্ধে। তারা সুষ্ঠু, যোগ্যতা-ভিত্তিক ও নীতিমালা অনুসরণ করে ডিলার নিয়োগ নিশ্চিত না করলে কৃত্রিম সার সংকট সৃষ্টি হতে পারে, যা কৃষক এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রস্তাবিত দাবি ও সতর্কবার্তা
জেলা জামায়াতের নেতারা নিম্নলিখিত দাবিগুলো উঠিয়েছেন:
- নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।
- ডিলার নিয়োগে প্রকৃত যোগ্যতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারি নীতিমালা hundertভাগভাবে মেনে চলতে হবে।
- কোনও ধরনের দলীয়করণ বা স্বজনপ্রীতি চললে তা বন্ধ করতে হবে; না হলে পরবর্তী কর্মসূচি নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তারা।
| চাহিদা | উদ্দেশ্য |
|---|---|
| নিরপেক্ষ তদন্ত | দুর্নীতির দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া |
| নীতি-অনুসরণ | ডিলারশিপ বণ্টনে যোগ্যতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠা |
| স্বচ্ছতা ও পর্যবেক্ষণ | কৃষকদের সার সরবরাহে বাধাহীনতা নিশ্চিত করা |
স্থানীয় প্রভাব ও কৃষকের উদ্বেগ
জেলা পর্যায়ে সার ডিলারের নিয়োগ প্রক্রিয়া কৃষকদের সরাসরি প্রভাবিত করে। যোগ্য ও সুষ্ঠুভাবে যে ডিলারজনরা বণ্টন করবেন, তারা স্থানীয় বাজারে সার সরবরাহ ও সঠিক মূল্য নিশ্চিত করেন। কিন্তু অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতার কারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি দেখা দেয়—সরবরাহ ব্যাহত হলে সারের মূল্য বাড়তে পারে, কৃষক কাঙ্ক্ষিত সারে পৌঁছাতে না পারতে পারে, এবং চাষাবাদে উৎপাদনশীলতা কমতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা আরও বলেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে যদি আগ্রহ না দেখায়, তাহলে বৃহত্তর স্তরে আন্দোলন বা কি ধরনের ধরণের কর্মসূচি নেওয়া হবে—তা পরে ঘোষণা করা হবে।
প্রশাসনের প্রতি প্রত্যাশা
নেতারা অনুরোধ করেছেন যে জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও দফতরগুলো প্রয়োজনীয় নজরদারি বাড়িয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ পর্যালোচনা করুক। তারা আশা করেন দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলো যাচাই করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম না ঘটে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ প্রশাসন ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর দিক থেকে দ্রুত সমাধান চান। তারা বলছেন—যদি নিরপেক্ষ ব্যবস্থা না নেয়া হয়, তাহলে কৃষি মৌসুমে সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি চাষি-শ্রমিকদের জীবনকে প্রভাবিত করবে।
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা এই দাবি তোলার ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখা বাকি প্রশাসন কি ধরনের পদক্ষেপ নেবে, অভিযোগগুলোর তদন্ত কতটা দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এবং কৃষক-সমিতিগুলো কীভাবে বিষয়টি অনুসরণ করবে।
চুয়াডাঙ্গার কৃষি সেক্টর ও স্থানীয় বাজারের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত সমাধান কাম্য—এটাই সংবাদ সম্মেলন থেকে উঠে আসা প্রধান সিদ্ধান্ত।