গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় ডিবি পরিচয়ে ছদ্মবেশে মানুষকে হুমকি ও ভয় দেখিয়ে অর্থ, মাদক ও মোবাইল ফোন আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গাইবান্ধা জেলা ডিবি মঙ্গলবার সাধারণ মানুষকে সাবধান থাকার আহ্বান দিয়েছে এবং সন্দেহভাজন চক্রটিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
চক্রের কীর্তি ও অভিযানের ধরন
জেলে ডিবির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মোত্তালিব সরকার জানিয়েছেন, তাদের কাছে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী একটি ১০ থেকে ১৫ সদস্যের চক্র রাস্তার বাড়ি-বাড়ি গিয়ে নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ বা ডিবি সদস্য পরিচয় দিচ্ছে। পরে তারা স্থানীয়দের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার কিংবা কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেখিয়ে অর্থ ও মূল্যবান জিনিস আত্মসাৎ করছে।
"কথিত চক্রটিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ডিবি ও থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে,"
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা গেছে, তারা বিশেষভাবে মাদকসেবী, মাদক কারবারি, হ্যাকার, ক্যাসিনো এজেন্ট এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের বাড়িতে গিয়ে হয়রানি করছে বা অর্থ দাবি করছে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ও দরবস্ত ইউনিয়নের কিছু এলাকায় তাদের কার্যক্রম বাড়তি উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
জনগণের জন্য পুলিশি পরামর্শ
ওসি মো. আব্দুল মোত্তালিব সরকার আরও বলেছেন, যদি কোনো ব্যক্তি নিজেকে ডিবি বা থানা পুলিশের পরিচয় দিয়ে বাড়িতে আসে বা অভিযান চালায়, তাহলে তার পরিচয়পত্র ও অভিযানের নথি যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। সন্দেহ হলে পুলিশকে অবিলম্বে জানাতে বলা হয়েছে।
- পরিচয় যাচাই করুন: পরিচয়পত্র, মাতৃ/বাবার নাম, ইউনিট ও অফিস স্ট্যাম্প চেক করুন।
- দ্রুত থানায় যোগাযোগ করুন: সন্দেহ হলে স্থানীয় থানা বা ডিবি অফিসে ফোন করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করুন।
- ব্যক্তিগত অনুরোধে দরজা খুলবেন না: রাতে অনলাইন বা টেলিফোনে ডিবি অভিযানের কথা শুনে একা দরজায় কাউকে দেবেন না।
কোন এলাকায় বেশি অভিযোগ?
স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী রাতের বেলায় নির্দিষ্ট কিছু বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করে অর্থ দাবি করার ঘটনা ঘটেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে অভিযোগ এসেছে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ও দরবস্ত ইউনিয়নের কিছু এলাকার নাম।
| পক্ষ | বিবরণ |
|---|---|
| আক্ষরিক অভিযোগ | ডিবি পরিচয় দেয়ার মাধ্যমে ভয়ভীতি ও অর্থ দাবি |
| আশঙ্কিত এলাকার নাম | তালুককানুপুর ও দরবস্ত (গোবিন্দগঞ্জ) |
| চক্রের আকার (অভিযোগ) | ১০–১৫ সদস্য |
পুলিশি পদক্ষেপ ও অগ্রাধিকার
জেলা ডিবি অফিসের কাছে জমা হওয়া অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে চক্রটিকে শনাক্ত করা হচ্ছে বলে ওসি মো. আব্দুল মোত্তালিব জানান। তিনি জানান, তদন্তের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে স্থানীয় থানা ও ডিবি যৌথভাবে অভিযান চালাবে এবং মূল হোতাসহ জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, এমন ছদ্মবেশী কৌশল গ্রাম ও বাজার অঞ্চলে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। অনেকেই রাতে দরজা বন্ধ রেখে নতুন আগতকে অনাস্থার চোখে দেখে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাতে এমন ঘটনার গুঞ্জন থাকায় লোকেরা বাড়ির বাইরে মেন্দা কমিয়েছে।
অবশেষে জেলা ডিবি এবং থানা পুলিশ জনসাধারণকে অনুরোধ করেছে—সন্দেহজনক ব্যক্তি বা গ্রুপ দেখলে তাদের পরিচয়পত্র চাইবেন, অভিযানের কাগজপত্র দেখানোর অনুরোধ করবেন এবং দ্রুত পুলিশকে জানাবেন। নিরাপত্তা বিষয়ক কোনো তথ্য থাকলে ডিবি অফিস বা নিকটস্থ থানায় জানাতে বলা হয়েছে।
গাইবান্ধা থেকে রিপোর্ট করা হচ্ছে—কানিজ সাত্তার, জেলা প্রতিনিধি।