নরসিংদীর রায়পুরায় সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়া একটি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রের নিখোঁজের চার দিন পর খালের পাড়ের ঝোপের মধ্যে তার গলিত মরদেহ পাওয়া গেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভেলুয়ারচর এলাকায় ওই মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় পরিবেশ ও প্রথমিক সংবাদ
নিহত ছাত্রের নাম তারেক রহমান (১৩)—তিনি ভেলুয়ারচরের মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়াউর রহমানের ছেলে এবং এলাকার একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে সে সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় এবং এরপর আর বাড়ি ফিরে আসেনি। পরিবারের অনুসন্ধান ও মাইকিং করেও কোনও সন্ধান মেলেনি।
কোথায় কীভাবে উদ্ধার হলো
স্থানীয়রা সোমবার দুপুরে ভেলুয়ারচরের একটি খালের পাড়ে ঝোপের মধ্যে পচনধরা একটি অজ্ঞাত মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ ও উদ্ধার দল ঘটনাস্থলে গেলে পরিবার সদস্যরা মরদেহটি তাদের নিখোঁজ সন্তান হিসেবে শনাক্ত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
- নিখোঁজ হওয়া তারিখ: ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার), দুপুরে বাড়ি থেকে বের হন।
- জিডি করা হয়: ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার), রায়পুরা থানা এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
- মরদেহ উদ্ধার: ১৯ অক্টোবর (সোমবার) দুপুরে ভেলুয়ারচরের খালপাড়ের ঝোপ থেকে।
বন্ধু ও এলাকাবাসীর বর্ণনা
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিখোঁজতার দিন দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত তারেক ছিলেন এলাকার এক যুবক ইউসুফ মিয়ার সঙ্গে। তারা দুজন সাইকেলে ভেলুয়ারচরের জগৎপুর এলাকার দিকে গিয়েছিলেন। পরে বিকাল ছয়টার আগে থেকে তারেক আর দেখা যায়নি—এমনই ব্যাখ্যা দিয়েছেন উপস্থিতরা।
“আমার সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর চারপাশে টিনের বেড়া দেওয়া কাঠবাগানেও খোঁজাখুঁজি করা হয়েছিলো। তখন সেখানে কোনো সাইকেল দেখতে পাওয়া যায়নি। একদিন পর সেখান থেকে সাইকেল উদ্ধার করা হয়। এতে আমাদের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। নিখোঁজের চারদিন পর আজ ছেলের মরদেহ পাওয়া গেছে। আমার ছেলের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
মায়ের এই অভিযোগ ও উদ্বেগ স্থানীয় মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। পরিবার জানান, নিখোঁজের পর আশেপাশের একটি কাঠবাগান থেকে পরদিন তাদের ছেলের সাইকেল উদ্ধার করা হয়েছিল যা সন্দেহ বাড়িয়েছে।
পুলিশের বার্তা ও প্রক্রিয়া
রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ জাহান জানান, উদ্ধারকৃত মরদেহে পচনের লক্ষণ লক্ষ্য করা গেছে। মরদেহের সুরতহাল করে সেটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
| বিষয় | তারিখ/সময় |
|---|---|
| নিখোঁজ হওয়ার দিন | ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার), দুপুর |
| জিডি দায়ের | ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) |
| মরদেহ উদ্ধার | ১৯ অক্টোবর (সোমবার), দুপুর |
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
একটি কিশোরের এই রহস্যময় মৃত্যু স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে উৎকন্ঠা সৃষ্টি করেছে। পরিবার ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ন্যায়বিচার চান এবং ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা, রাস্তা-ঘাটে নজরদারি ও পারিবারিক সচেতনতা নিয়ে কথাবার্তা বাড়ছে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর যে তথ্য উঠে আসবে তা এই ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সাহায্য করবে। তদন্ত শেষে পুলিশ যদি আরেকটু বিস্তারিত তথ্য জানায়, তখন ঘটনার পরিণতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সমাজকর্মীরা এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে—সেটি নিয়েও আলোচনার দরকার। নিরাপত্তা ও তৎপরতা বাড়ালে এমন নিখোঁজ-ঘটনা দ্রুত সমাধান হতে পারে এবং স্থানীয়দের মানসিক শান্তি ফিরে পেতে সহায়ক হবে।
রায়পুরা উপজেলায় এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত আছে; ময়নাতদন্তের ফলাফল ও পুলিশি অনুসন্ধানের পরবর্তী আপডেট জানানো হবে।