বাগেরহাট থেকে রিপোর্ট: বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে মাসে মাত্র ২,০০০ টাকা বেতনে কাজ করা অস্থায়ী কর্মচারীরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালের নিচতলায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা অভিযোগ করলেন—প্রতিশ্রুতি মাথায় রেখে বছরের পর বছর সেবা করার পরেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জানানোর আগেই আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ২৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অবস্থানের কারণ ও কর্মচারীদের দাবি
অস্থায়ী কর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা নন-স্টাফ হিসেবে কাজ করে আসছেন। তাদের ভাষ্য—কর্তৃপক্ষ আগে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে আউটসোর্সিং পদ্ধতির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় স্থায়ী বা নিয়মতান্ত্রিক নিয়োগ করা হবে। সেই আশায় তারা কম বেতনে কাজ করে আসলেও হয়রানির মধ্যে পড়েছেন। হঠাৎ করে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হলে তারা কাজ করতে বাধা পেয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষের সাথে কোন আলোচনা ছাড়াই নতুন যারা নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের কর্মস্থলে যোগদানের আগেই প্রকৃত কর্মচারীদের কাজ থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
অবস্থানে অংশ নেওয়া কর্মীরা তাদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে এবং দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতির সম্মান বজায় রাখতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন। বিক্ষোভের সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বা ওয়ার্ড মাস্টারের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে তারা সরাসরি প্রতীকী প্রতিবাদ দেখান।
ব্যক্তিগত কাহিনি
হাসপাতালে প্রায় ১৫ বছর ধরে আয়া হিসেবে কাজ করা লাকি বেগম বলেন—
“আমি এই হাসপাতালে মাত্র দুই হাজার টাকা বেতনে ১৫ বছর ধরে আয়ার কাজ করেছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের আশ্বাস দিয়েছিল, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু হঠাৎ করেই নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। উল্টো আমাদের কাজে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। আমরা এই অবিচার মেনে নেব না। আমাদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে।”
অন্য একজন—দীর্ঘদিন ক্লিনারের কাজ করা নোমান বলেন, মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তাদের নামমাত্র বেতনে রেখে পরে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন, ন্যায্য অধিকার না দিলে আন্দোলনের through তা আদায় করা হবে।
প্রশাসনের বক্তব্য
বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলার তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, নতুন যে ২৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচআরডির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত। তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে সরাসরি নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা নেই এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জনবল নিয়োগের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে থাকে।
“আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নতুন যে ২৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা সবাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচআরডির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত। এখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কিছু করার নেই।” — ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার (তত্ত্বাবধায়ক)
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্ন
ঘটনাটি বাগেরহাটের স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দীর্ঘদিনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ওয়ার্ডবয় ও অন্যান্য সহায়তা কর্মকাণ্ডের ওপর এই নিয়োগগত পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে—যাতে রোগী সেবার ধারাবাহিকতা ও অভিজ্ঞ কর্মীদের নিয়োজিত রাখার প্রশ্ন ওঠে। স্থানীয়রা জানতে চাচ্ছেন, কেন প্রাথমিকভাবে কাজ করা কর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়নি এবং ঠিকাদারি প্রক্রিয়ায় তাদের এলাকার কর্মীরা তালিকাভুক্ত না হওয়ার কারণগুলো কী।
- হাসপাতালের শয্যা: ২৫০
- নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত: ২৮ জন (ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্বারা)
- আর্থিক পরিস্থিতি: কিছু অস্থায়ী কর্মী মাসে মাত্র ২,০০০ টাকা বেতন পেতেন)
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| হাসপাতালের শয্যা | ২৫০ |
| নতুন নিয়োগ | ২৮ (আউটসোর্সিং করে) |
| অস্থায়ী কর্মচারীদের দাবি | চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ |
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বা প্রশাসনিক পর্যায়ে বিষয়টি তদন্ত করে যদি স্পষ্ট নীতিগত ব্যাখ্যা ও সমাধান না দেওয়া হয়, তাহলে স্থানীয় কর্মচারীরা কঠোর আন্দোলন পর্যায়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন চিকিৎসক ও কর্মচারী নেতারা। বর্তমানে বিতর্কটি নিরসনে দরকার স্পষ্ট কাগজপত্র প্রদর্শন এবং আউটসোর্সিংয়ের শর্তাবলী সকলের সামনে উন্মুক্তভাবে উপস্থাপন।
অবস্থান চলছে এবং হাসপাতালের নানান কার্যক্রম সাময়িকভাবে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় পরিচিতজন ও অধিকারবক্তারা বলছেন—জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এমন নিয়োগ পরিবর্তন হলে তা রোগীসেবা ও কর্মক্ষেত্রের নৈতিকতার উপর প্রশ্ন তোলে; তাই দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধান প্রয়োজন।