মৌলভীবাজারের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের বিষয়ে একটি গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এম নাসের রহমান অভিযোগ করেছেন যে, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) যৌথভাবে দরপত্র ছাড়াই ১ কোটি ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। ঘটনাটি শনাক্তের পর তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে বলা হয়েছে।
অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
অভিযোগটি সোমবার জেলা প্রতিনিধি সমাবেশে নাসের রহমানের বক্তব্যের মাধ্যমে সামনে আসে। তিনি বলেন, এ ঘটনার ফলশ্রুতিতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও আরএমও যৌথভাবে ওই অর্থ উত্তোলন করেছেন। অভিযোগ সম্পর্কিত তদন্তে স্থানীয় বা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা নিয়ে এখনই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পঁাওয়া যায়নি।
“গত সপ্তাহে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে দরপত্র ছাড়াই ১ কোটি ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের ঘটনা আমি শনাক্ত করেছি।”
অভিযোগকারী সংসদ সদস্য এ ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যের দিকটিকেও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সেবা পৌঁছাচ্ছে না; রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাবে জনগণ প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছে না।
তদন্তের রূপরেখা ও প্রাসঙ্গিক তথ্য
সূত্রে বলা হয়েছে, তদন্তে তিনটি আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিজস্ব তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ, অর্থ উত্তোলনের কাগজপত্র ও দরপত্র সংক্রান্ত হিসাব-পত্র খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা গেছে।
- অভিযোগিত এমাউন্ট: ১ কোটি ২০ লাখ টাকা
- প্রতিবেদকের দাবি অনুযায়ী অভিযুক্ত কর্তাব্যক্তি: হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও আরএমও
- গঠিত: ৩টি তদন্ত কমিটি এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযোগকর্তা | মৌলভীবাজার-৩ সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান |
| অভিযোগিত অর্থ | ১ কোটি ২০ লাখ টাকা |
| তদন্তকারী | ৩টি কমিটি; দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) |
লোকাল স্তরে প্রভাব ও উদ্বেগ
মৌলভীবাজারের সাধারণ মানুষ ও রোগীরা স্থানীয় হাসপাতালে সেবা প্রার্থনা করে। এমন অভিযোগ উঠলে হাসপাতালের পরিচালনা ও সেবা দেয়ার কার্যক্রমে অবিচ্ছিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে—বিশেষত জরুরি ও নিয়মিত চিকিৎসা সেবায়। অভিযোগ যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি স্থানীয় স্বাস্থ্যপরিসেবার ওপর নেতিবাচক আঘাত হয়ে দাঁড়াবে, এবং নাগরিকদের বিশ্বাস কমবে।
হাসপাতালের অবকাঠামো, ওষুধ সরবরাহ ও মানবসম্পদ—সব ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা ও নীতিনির্ধারক তদারকি থাকা প্রয়োজন বলে স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায় থেকে আওয়াজ উঠেছে। নির্বাচিত নেতার দাবি অনুযায়ী স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও প্রদত্ত সেবার গুণগত মান ও সুষ্ঠু ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি রয়েছে।
পরবর্তী ধাপ ও প্রত্যাশা
দুদক ও গঠন করা তদন্ত কমিটি দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করবেন—এটাই স্থানীয় মানুষ ও অভিযোগকারীর প্রত্যাশা। তদন্তে প্রকৃত অবস্থা উদঘাটিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা ও দাবি উভয়ই রয়েছে।
এই সংবাদ প্রকাশের সময় হাসপাতালের অফিসিয়াল বক্তব্য পাওয়া যায়নি; হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা স্বাস্থ্য বিভাগ যদি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়, তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে। স্থানীয় জনগণের কাছে পরিষ্কার করার জন্য তদন্তের ফলাফল দ্রুত প্রকাশেরও দাবি উঠেছে।
এই ঘটনার ফলাফল কত দ্রুত ও কীভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে, সেটাই আগামী আলোচনা ও সাংবাদিক অনুসন্ধানের মূল ফোকাস থাকবে।
শম্পা ভৌমিক
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি, ZTL