ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় মঙ্গলবার বিকেলে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের জায়গায় উল্টে পড়লে শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন নিহত শিশুর মা ও ইজিবাইক চালক।
দুর্ঘটনার সময় ও স্থান
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাজাপুর-পিরোজপুর মহাসড়কের নারিকেলবাড়িয়া এলাকায়। ইজিবাইকটি রাজাপুর থেকে দক্ষিণ তারাবুনিয়ার দিকে যাওয়ার পথে আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং সড়কের পাশে উল্টে পড়ে।
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে মো. আদিব, বয়স ১০ বছর, তিনি দক্ষিণ তারাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং প্রবাসী বাবার সন্তান। আহতদের মধ্যে রয়েছেন তার মা নিশাত সুলতানা (৩০) ও ইজিবাইক চালক মো. হেমায়েত তালুকদার (৪৫)।
প্রাথমিক উদ্ধার ও চিকিৎসা
এলাকার লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে বিকেল পাঁচটার দিকে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে পাঠান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শিশু আদিবকে মৃত ঘোষণা করেন। মা ও চালককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের পর্যবেক্ষণ
রাজাপুর থানা ওসি বলেন, পরিবার পক্ষ থেকে অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
“পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিশুটির লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।”
পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্ন
এই দুর্ঘটনা রাজাপুর উপজেলার গ্রামীণ সড়কে যান চলাচলের নিরাপত্তা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ব্যবহার সংক্রান্ত উদ্বেগ আবারও তুলে দিয়েছে। ইজিবাইকগুলোর অগোছালো সরঞ্জাম, ওভারলোডিং ও দ্রুতগতিই সাধারণত এমন ঘটনায় দায়ী বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
- নিহত: মো. আদিব, ১০
- আহত: নিশাত সুলতানা, ৩০ (মা)
- আহত: মো. হেমায়েত তালুকদার, ৪৫ (চালক)
- স্থান: রাজাপুর-পিরোজপুর মহাসড়ক, নারিকেলবাড়িয়া
- সময়: মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটা頃
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| ঘটনাস্থল | নারিকেলবাড়িয়া, রাজাপুর-পিরোজপুর মহাসড়ক |
| মৃতক | মো. আদিব, ১০ বছর |
| আহত | নিশাত সুলতানা (৩০), মো. হেমায়েত তালুকদার (৪৫) |
| চিকিৎসা | রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (জরুরি বিভাগ) |
পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামীণ সড়কে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ঝুঁকি
রাজাপুর ও আশপাশের গ্রামগুলোতে ইজিবাইক একটি সাধারণ চলাচলের মাধ্যম। সাশ্রয়ী হওয়ায় এটি অনেক পরিবারের দৈনন্দিন যাতায়াতে ব্যবহৃত হয়। তবে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনার ফলে স্থানীয়রা ইজিবাইক চালনার নিরাপত্তা বিধি, নিয়মিত যন্ত্রচালনা পরিদর্শন ও চালকের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। রাজাপুরের কিছু বয়স্ক বাসিন্দা ও পরিবারের প্রতিনিধিরা বলেন, রাস্তার খারাপ অবস্থাও দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ হতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক বিভাগ যদি পথের খারাপ অংশগুলো মেরামত করে ও ইজিবাইকগুলোর জন্য নির্দিষ্ট নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করে, তবে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব বলে দাবি করেন প্রতিবেশী মানুষরা।
পরবর্তী করণীয়
পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে। একই সঙ্গে পরিবার ও এলাকায় নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ ও সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করার আহ্বানও উঠেছে।
ঘটনাটির অনুভূত ক্ষত এলাকাবাসীর মধ্যে স্পষ্ট; একদিকে শোক, অন্যদিকে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো।