জেলার সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মধ্যে দৃষ্টি সমস্যার দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান নিশ্চিত করতে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঝালকাঠি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। আয়োজন করেন সাজেদা ফাউন্ডেশন; সহযোগিতা করেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও ডব্লিউসিসি ঝালকাঠি।
ক্যাম্পের সেবা ও অংশগ্রহণ
সোমবার সকাল থেকেই অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ উপস্থিত হন। জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মমিন উদ্দির্ন এবং জেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পরিচালিত ক্যাম্পে ৭৮৭ জন রোগীর চক্ষু পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে ৪৯১ জনে প্রেসবায়োপিয়া ধরা পড়ায় তাদের মধ্যে সমান সংখ্যক ৪৯১টি চশমা সরাসরি বিতরণ করা হয়েছে।
চশমা-বিতরণ ও অপারেশন সুবিধা
ক্যাম্পে শুধু চশমাই নয়, ছানি (ক্যাটার্যাক্ট) রোগী শনাক্ত ও অপারেশন সম্পর্কেও ব্যবস্থা রাখা হয়। রবিবারের কার্যক্রমে ৩৬ জন ছানি রোগী শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের পরবর্তী চিকিৎসা ও অপারেশনের সুযোগ দেওয়া হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। এছাড়া ক্যাম্পে ১০২ জন বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের লক্ষণসহ চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছেন এবং ৭৯ জন সাধারণ রোগীকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব
এই ধরনের সাশ্রয়ী চক্ষু সেবা গ্রামীণ ও কাজী জনপদের শ্রমিক থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পর্যন্ত কাজের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আয়োজকদের তত্ত্বাবধানে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, চশমা ব্যবহারের ফলে একজন ব্যক্তির আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে—একটি গবেষণায় দেখা গেছে চশমা ব্যবহারে ব্যক্তির আয় প্রায় ৩২% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
আলোচ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিতরা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায়) ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার। গেস্ট অব অনার ছিলেন সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো (ঝালকাঠি-২)। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঝালকাঠি পুলিশ সুপার মেরিন সুলতানা, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাত হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর এবং ঝালকাঠি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন। জেলা প্রশাসকের সক্রিয় সহযোগিতায় কর্মসূচিটি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়িত হয়।
ক্যাম্পের প্রধান সেবা
- বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা
- প্রেসবায়োপিয়া শনাক্ত ও স্পষ্ট দৃষ্টির চশমা বিতরণ
- ছানি (ক্যাটার্যাক্ট) রোগীদের নিরীক্ষণ ও পরবর্তী অপারেশনের ব্যবস্থা
- অসংক্রামক রোগের প্রাথমিক চিহ্ন-নির্ণয় ও প্রাথমিক চিকিৎসা
পরিসংখ্যান এক নজরে
| পরিকাঠামো/পরিসেবা | সংখ্যা |
|---|---|
| চক্ষু পরীক্ষা গ্রহণকারী | ৭৮৭ |
| প্রেসবায়োপিয়া শনাক্ত | ৪৯১ |
| বিতরণকৃত চশমা | ৪৯১ |
| ছানি রোগী শনাক্ত | ৩৬ |
| অসংক্রামক রোগ সংক্রান্ত পরামর্শ/চিকিৎসা | ১০২ |
| সাধারণ রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা | ৭৯ |
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী নির্দেশনা
অনুষ্ঠান আয়োজকদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, জেলার বিত্তবিত্ত না-হওয়া মানুষ ও গ্রামীণ কর্মজীবীরা সহজলভ্য চক্ষু সেবা পেলে তাদের উপার্জনের সুযোগ ও জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে আরও বেশি টার্গেটেড ক্যাম্প এবং ছানি অপারেশনের পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।
স্থানীয় লোকজনকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে যে, চোখে কোনও অসুবিধা অনুভব করলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করবেন এবং বয়স্ক সদস্যদের নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করাতে উৎসাহিত করবেন।
এদিনের কার্যক্রমে উপস্থিতি ও সেবা সংক্রান্ত সমন্বয় ঘিরে বিশেষভাবে জেলা প্রশাসন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও সাজেদা ফাউন্ডেশনের ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে।
ঝালকাঠি থেকে — মাহফুজ রশিদ, ZTL