কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধরনী বাড়ি ইউনিয়নের পন্ডিত পাড়া গ্রামে গত রাতেই এক ফুটন্ত ও নৃশংস ঘটনার সাক্ষী হয়েছে স্থানীয় একটি পরিবার। পুলিশের প্রাথমিক জানতে পারা বিবরণ অনুযায়ী, বাচ্চু মিয়া (৭০) নামের এক বৃদ্ধকে ঘুমানোর সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন হচ্ছেন তারই নাতি, রাব্বি (২২), যিনি ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
ঘটনা-কর্মপ্রণালী ও প্রাথমিক অনুসন্ধান
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ও নাতি একই ঘরে রাত্রে ঘুমাতে গিয়েছিলেন। রাত আনুমানিক ১টাটার সময় রাব্বি ঘরের অন্য সদস্যদের জাগিয়ে বললে তারা দেখে বাচ্চু মিয়ার দেহ বিছানায় ভগ্নাংশে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে আছে। নিহতের আপনার এক ভাই, এক্কাবর আলী, ঘটনাস্থলেই দেখেন বাচ্চুর ছেঁড়া-ভাঙা মরদেহ। তিনি পরে পুলিশকে খবর দেন।
| সময় | ঘটনা |
|---|---|
| রাত ১০টা | রাতে খাওয়ার পর সবার ঘুমানোর প্রস্তুতি |
| রাত ১টা | রাব্বি দাদাকে হত্যা ও পরিবারের বড়দের ডাক দেয় |
| পরক্ষণে | স্থানীয়রা ঘটনার স্থান পরিদর্শন করার আগে রাব্বি পালায়; পুলিশ এসে সুরতহাল ও লাশ মর্গে পাঠায় |
পুলিশি ব্যবস্থা ও জিজ্ঞাসাবাদ
উলিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে লাশ উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। থানার অফিসার ইনচার্জ শওকত আলী জানিয়েছেন, ঘটনার জন্য জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে তিনজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং মামলার রেকর্ড প্রস্তুত করছে পুলিশ। তদন্ত এখনো চলমান।
"মামলা রেকর্ডের প্রস্তুতি চলছে"
পারিবারিক পটভূমি ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
পড়শী ও আত্মীয়দের দেয়া বিবরণে জানা যায়, নিহত বাচ্চু মিয়া প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে রংপুরে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। দু'দিন আগে তিনি আপনার ভাই এক্কাবর আলীর বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা গাজীপুরের মনিপুরে কর্মসংস্থানের জন্য সংসার নিয়ে সেখানে থাকেন। স্থানীয়দের মধ্যে এ ধরনের পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা বেশ উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, কোনো পূর্ব বিরোধের ইঙ্গিত নেই বলে তাদের ধারণা, ফলে হত্যার কারণ আংশিক বুঝে উঠতে পারছে না বলা যায়।
- নিহত: বাচ্চু মিয়া, বয়স ৭০
- প্রতিদ্বন্দ্বী/সন্দেহভাজন: রাব্বি, বয়স ২২ — পলাতক
- থানায় নেওয়া হয়েছে: ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক বা ডেকে তোলা হয়েছে
স্থানীয় সমাজচিন্তকরা বলেছেন, পরিবারের মধ্যেই যদি এমন মারাত্মক সহিংসতা ঘটে তাহলে এর পিছনে সামাজিক ও মানসিক কোনো সংকট থাকতে পারে এবং তা দ্রুতভাবে সমাধান ও তদন্ত হওয়া উচিত। এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সমাজকর্মীদের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি তোলে।
আশঙ্কা ও পরবর্তী করণীয়
নিহতের পরিবারের বরাবর পুরোনো কোনো বিবাদ ছিল কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিবেশীরা জানান, পূর্বে তাদের মধ্যে কোনো সুস্পষ্ট বিবাদের খবর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এলাকাবাসী আতঙ্কিত এবং পরিবারের আপনজনের হাতে হত্যাকাণ্ড মানতে পারছে না। স্থানীয় পুলিশকে দ্রুত ধরা না পড়া সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের আহ্বান জানাচ্ছেন সচেতন মহল।
তদন্তপ্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, সিউডো সিক্যুয়েন্স অর্থাৎ ঘটনার সময়কার মুড, এবং ফরেনসিক উপাত্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে মামলা রেকর্ড ও তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত এগোছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপরতার সঙ্গে অনুসন্ধান চালিয়ে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে বলা হচ্ছে, যাতে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।
রিপোর্টটি স্থানীয় সূত্র, পরিবার ও উলিপুর থানার তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।