হবিগঞ্জে চুনারুঘাট ও শায়েস্তাগঞ্জে মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৯ (এসআরবি-৯) পৃথক চেকপোস্ট এবং তল্লাশি অভিযানে মোট ৩৬ কেজি গাঁজা জব্দ করে চারজনকে গ্রেফতার করেছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের শেষে উদ্ধারকৃত গাঁজাসহ সংশ্লিষ্ট থানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযান ও গ্রেফতারের সূত্রপাত
এসআরবি-৯ সূত্র জানায়, ভোরে চুনারুঘাট উপজেলার দুর্গাপুর বাজারের সামনে চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। সেখানে একটি সবুজ রঙের সিএনজি অটোরিকশা থামানোর সংকেত দিলে চালক পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। তল্লাশি করে প্লাস্টিকের ব্যাগে লুকানো ২০ কেজি গাঁজা বের হয় এবং সজীব আহমেদ (২১) নামে ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। সূত্রে জানানো হয়েছে সজীব চুনারুঘাট উপজেলার উত্তর আমকান্দি গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে।
দুই নম্বর টিমের অভিযানে আরও উদ্ধার
একই সময় শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর এলাকায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে অপর একটি চেকপোস্টে তল্লাশি চালায় এসআরবি-৯-এর দ্বিতীয় দল। সিলেট থেকে ময়মনসিংহগামী একটি বাস তল্লাশি করে সেখানে থাকা যাত্রী-সামগ্রী থেকে ১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং ওই বাসে থাকা তিনজনকে আটক করা হয়।
- চুনারুঘাট, দুর্গাপুর: সজীব আহমেদ (২১) — ২০ কেজি গাঁজা।
- শায়েস্তাগঞ্জ, ফরিদপুর: নজরুল ইসলাম (৩৪) — অংশগ্রহণকারী হিসেবে আটক।
- শায়েস্তাগঞ্জ, ফরিদপুর: ওমর ফারুক (২২) — একই অভিযানে আটক।
- শায়েস্তাগঞ্জ (মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল গ্রামের): রাছনা আক্তার (৩৫) — একই বাসে থাকা অবস্থায় আটক।
| নাম | বয়স | স্থান (উপজেলা/গ্রাম) | উদ্ধারকৃত গাঁজা (কেজি) |
|---|---|---|---|
| সজীব আহমেদ | ২১ | উত্তর আমকান্দি, চুনারুঘাট | ২০ |
| নজরুল ইসলাম | ৩৪ | হাল্টর হাওর, চুনারুঘাট | — (দলগত অংশ) |
| ওমর ফারুক | ২২ | হাল্টর হাওর, চুনারুঘাট | — (দলগত অংশ) |
| রাছনা আক্তার | ৩৫ | পশ্চিম লইয়ারকুল, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) | — (দলগত অংশ) |
পুলিশের বক্তব্য ও পরবর্তী ব্যবস্থা
এসআরবি-৯-এর মিডিয়া অফিসার কেএম শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন। উদ্ধারকৃত মাদকসহ তারা সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।
"মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতিতে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
স্থানীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় এমন চেকপোস্ট অভিযান গুরুত্বপূর্ন হলেও, এলাকাবাসী উদ্বেগ ব্যক্ত করেছেন যে বড় পরিসরে মাদক প্রবাহ রোধে নিয়মিত ও সমন্বিতভাবে পুলিশি তৎপরতা চালিয়ে যেতে হবে। ব্যবসায়ী ও অভিভাবকরা বলেন, প্রচলিত পরিবহন রুটে মাদক পার্সেল ছড়ানো হলে তা মনিটরিং বাড়িয়ে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।
এসআরবি-৯ সূত্র জানিয়েছে, পরবর্তী প্রক্রিয়ায় তথ্য নির্ভুলতা যাচাই করে থানায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে এবং তদন্তের অংশ হিসেবে আটককৃতের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য জড়িতদের সন্ধান ও চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হবে। জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাদক নির্মূলে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার সংকল্প ব্যক্ত করেন।
হবিগঞ্জ থেকে রিপোর্ট করা এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট যে, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ও স্থানীয় বাজার এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্ট কার্যক্রম মাদক-পরিবহনে ব্যাঘাত ঘটাতে সক্ষম। তবে মাদক ব্যবহার ও পাচার প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা ও তথ্যভিত্তিক অভিযানের দরকার রয়েছে—এ দাবিতেই স্থানীয় সমাজ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে।