ভোলায় প্রাথমিক শিক্ষকদের সম্মেলন: দাবি ও সম্মাননা
প্রাথমিক শিক্ষকেরা যাতে সমাজে মর্যাদা পায়, ন্যায়সংগত অধিকার নিশ্চিত হয় এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেয়ার লক্ষ্যে ভোলা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষক সম্মেলন ও গুণী শিক্ষক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদ, ভোলা জেলা শাখা। কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েক শতাধিক শিক্ষক অংশ নেন।
সম্মেলনে মূল আলোচক ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মো. মিজানুর রহমান, এবং প্রধান অতিথির দায়িত্বে ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি আবুল খায়ের। সভার সভাপতিত্ব করেন ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. আমিনুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মো. শামসুল আলম।
“প্রাথমিক শিক্ষা জাতির ভিত্তিপ্রস্তর। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে সর্বাগ্রে শিক্ষকদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা সুনিশ্চিত করতে হবে।” — মো. মিজানুর রহমান
সম্মেলনে বক্তারা প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা পরিবেশের উন্নয়ন, শিক্ষকদের চাকরিসত্ব, বেতন-ভাতা ও পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা নীতিতে শিক্ষকদের সংশ্লিষ্টতা জোরালোভাবে প্রতিপাদন করেন। উপস্থিত অতিথি ও নেতারা বলছেন, যাতে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকরা সারা দেশব্যাপী মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার পায় তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তাদের দাবি ত্বরান্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা উচিত।
গুণী শিক্ষক সম্মাননা ও স্থানীয় স্বীকৃতি
সম্মেলনের এক অংশ ছিল গুণী শিক্ষক সংবর্ধনা। অনুষ্ঠানে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনজন শিক্ষককে সম্মাননা ও স্মারক প্রদান করা হয়। অতিথিরা তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
| পুরস্কারের ধরন | প্রাপ্ত শিক্ষকের নাম |
|---|---|
| জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক | সাহিদা আক্তার সুমনা |
| জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক | মো. নাজিম উদ্দীন |
| শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক | মো. মহিউদ্দিন |
- সম্মেলনে শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
- প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে স্থানীয় পর্যায়ের অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও সমন্বয়ের গুরুত্ব আলোচনা করা হয়।
- শিক্ষকদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চরফ্যাশন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রোফেসর মোহাম্মদ উল্যাহ স্বপন এবং মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের ভোলা জেলা সেক্রেটারি মো. আমির হোসেন। কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি কামাল উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে বক্তারা অনুরোধ করেন—শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার ও পেশাগত নিরাপত্তা দেওয়া না হলে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব হবে না। তাঁরা বলেন, শিক্ষকদের জীবন ও পেশাজীবন নিরাপদ না হলে ক্লাসরুমে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করা যাবে না।
স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাংশ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য এই ধরনের সম্মেলনকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা বলছেন, নিয়মিত এ ধরনের সভা শিক্ষকদের যেন ক্ষমতায়ন করে এবং স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে সচল রাখে। তবে বক্তারা এই করায়ত্ত উদ্যোগকে কার্যকর করতে জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নীতি নির্ধারকদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার উপর জোর দেন।
ভোলার প্রাথমিক শিক্ষকদের এই সংগঠিত দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে জেলা স্তরে প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষাদানে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা দেখা দেয়—এটাই অনুষ্ঠানের প্রতিফলন বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
মিলী ঘোষ
ভোলা প্রতিনিধি, ZTL