ঘটনার সারসংক্ষেপ
যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে মঙ্গলবার সকালে একটি বাড়ির খাটের ওপর থেকে আছিয়া বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃতার স্বামীর নাম ছিল আবু দাউদ শেখ; স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি বাড়িতে তাঁর বোনের সঙ্গে বসবাস করছিলেন।
ঘটনার বিবরণ ও পুলিশি বক্তব্য
স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাতে বৃদ্ধা ওই বাড়িতে একাই ছিলেন কারণ তাঁর বোন আড্ডা বা বেড়াতে গিয়ে ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে প্রতিবেশীরা দরজায় ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে ঘরের মধ্যে খোঁজ নিলে বসতখাটের উপর মফস্বলের বৃদ্ধার মৃতদেহ দেখতে পান এবং পরে পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান সংবাদকে জানান, “পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করছে।” তিনি আরও জানান ঘটনার সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনে অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্ত এগোচ্ছে।
পরিবারের দাবি ও এলাকায় উদ্বেগ
নিহতের কন্যা পান্না বেগম জানিয়েছেন, ঘরের সব জিনিসপত্র এলোমেলো ছিল। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, “জমির দলিল, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।” পরিবারের এই দাবি ও মৃতার শরীরে যে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে তা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
- ঘটনাস্থল: রামনগর গ্রাম, সিদ্ধিপাশা ইউনিয়ন, অভয়নগর উপজেলা।
- নিহত: আছিয়া বেগম, বয়স ৭৫ বছর।
- পুলিশ ব্যবস্থা: মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে; তদন্ত ও আলামত সংগ্রহ চলছে।
প্রাথমিক তথ্য টেবিলে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | আছিয়া বেগম |
| বয়স | ৭৫ বছর |
| অবস্থান | রামনগর গ্রাম, সিদ্ধিপাশা, অভয়নগর, যশোর |
| রিপোর্ট পাওয়া সময় | মঙ্গলবার সকাল (স্থানীয়) |
| পুলিশের পদক্ষেপ | মরদেহ উদ্ধার, ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ, তদন্ত শুরু |
প্রভাব ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
এভাবে বৃদ্ধাবৃদ্ধা শ্রেণীর সদস্যের নিজ ঘরে নিহত হওয়ার ঘটনা গ্রামাঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, সাধারণত বাড়ির প্রবেশদ্বারে লক ব্যবস্থাই ছিল এবং আশপাশে যারা–স্বজন বা পরিচিতরা তাদেরই গতিবিধি নজরে থাকবে। তারপরও রাতের একটি সময়ে এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফল প্রতীক্ষিত; তদন্ত থেকে যে তথ্যগুলো পাওয়া যাবে তা স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের প্রশ্নের উত্তর দেবে—বিশেষ করে কীভাবে বাইরে থেকে প্রবেশ করা হয় বা ভিতরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে কিনা, লুটপাটের নমুনা ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কিনা ইত্যাদি।
স্থানীয় নেতারা ও গ্রামবাসী তদন্তে দ্রুত ও স্বচ্ছ কার্যক্রমের আহ্বান জানিয়েছেন। অপরদিকে বৃদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ বা আইনগত ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।
“জমির দলিল, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দুর্বৃত্তরা আমার মাকে হত্যার পর এসব লুট করে নিতে পারে”— নিহতের মেয়ে পান্না বেগমের অভিযোগ।”
পুলিশ জানায় যে তদন্তের স্বার্থে তারা সমস্যাগ্রস্ত বাড়ির আশপাশের সিসিটিভি রেকর্ড, সাক্ষীদের মুখোমুখি বিবরণ ও আলামত বিশ্লেষণ করবে। ময়নাতদন্ত শেষে তদন্ত আরও নির্দিষ্ট রূপ নেবে এবং প্রয়োজনে গ্রেফতারির চেষ্টা চালানো হবে।
এই ঘটনায় সমগ্র অভয়নগর ও আশপাশের গ্রামের মানুষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং যে কেউ ঘটনার সম্পর্কে তথ্য থাকলে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।
রিপোর্ট — যশোর সংবাদ ব্যুরো