সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে ঢাকা থেকে প্রচলিত রুটগুলোতে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সোমবার (১৯ অক্টোবর) জানায়, গত নয় দিনের মধ্যে মোট ১২৬টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে ১৯,৩৭৭ জন যাত্রী প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।
বাতিল ফ্লাইটের ধারণা ও বিভাজন
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, মোট বাতিল ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৫৯টি সরাসরি ও ৬৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। সরাসরি রুটগুলোর মধ্যে বিমানবাহিনীর ভিত্তিতে বিভাজন উল্লেখযোগ্য—বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ১৯টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি সরাসরি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
“ঢাকা থেকে এ পর্যন্ত ৫৯টি সরাসরি ফ্লাইট ও ৬৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।”
ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাতিল হয়েছে ভারতের ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের—২৪টি। এছাড়া এমিরেটস ১৪টি, সালাম এয়ারের সাতটি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাই দুবাই ও এয়ার ইন্ডিয়াসহ অন্যান্য লাইনের ছয়টি করে এবং ইজিপ্ট এয়ার একটি ফ্লাইট বাতিল করে।
বিমান সংস্থার নীতিমালা ও পুনর্বিবেচনা
সংবাদে বলা হয়েছে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স তাদের রিয়াদগামী ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল করেছে। আর বিমান বাংলাদেশ অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত একই রুটে ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে। বিমান বাংলাদেশ পরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ২১ অক্টোবর থেকে দাম্মামগামী ফ্লাইট পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
- সরাসরি বাতিল: ৫৯টি
- ট্রানজিট বাতিল: ৬৭টি
- অতিরিক্ত প্রভাব: ১৯,৩৭৭ জন যাত্রী
| বিভাগ | এয়ারলাইন/শ্রেণি | বাতিল ফ্লাইট সংখ্যা |
|---|---|---|
| সরাসরি | বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স | ২০ |
| সৌদিয়া এয়ারলাইন্স | ১৯ | |
| রিয়াদ এয়ারওয়েজ | ১০ | |
| ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স | ১০ | |
| ট্রানজিট | ইন্ডিগো | ২৪ |
| এমিরেটস | ১৪ | |
| সালাম এয়ার | ৭ | |
| কাতার এয়ারওয়েজ | ৯ | |
| ফ্লাই দুবাই | ৬ | |
| এয়ার ইন্ডিয়া | ৬ | |
| ইজিপ্ট এয়ার | ১ |
প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী প্রভাব
১০ অক্টোবর থেকে শুরু করে রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে হুতি গোষ্ঠীর দফায়-দফায় হামলা চালানো হয়। বিশেষত ১০ অক্টোবর দুপুরে রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলাটিকে সৌদিতে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী আঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সূত্র বলছে, ওই ঘটনায় বিভিন্ন দেশের মোট ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন আহত হয়েছেন; নিহতদের মধ্যে দুজন এবং আহতদের মধ্যে ২৭ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। হামলার তীব্রতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি চালু থাকা পর্যন্ত এসব রুটে চলাচল এলাকায় পর্যায়ক্রমে প্রভাব থাকতে পারে।
ঢাকায় থাকা যাত্রীরা এখন বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করছেন। বাতিল বা স্থগিত ফ্লাইটে থাকা যাত্রীদের পুনর্নির্ধারণ, টিকিট ফেরত বা বদল, এবং কনসোলিডেশনের বিষয়ে আগাম ঘোষণা ও বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে আরও তথ্য জানাতে বিমান সংস্থাগুলো যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে সংঘবদ্ধ পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর দিকে নজর রয়েছে।
এই পরিস্থিতি চলমান থাকলে সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্য রুটে চলাচল ও ভ্রমণ পরিকল্পনায় সংশোধন আনতে হতে পারে, যা ঢাকার ব্যবসা, ধর্মজীবী এবং কর্মী প্রেরণের ওপরও প্রভাব ফেলবে। পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে তা বিমানসংস্থান ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়মিত পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখায়।