মেহেরপুরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্রাঙ্গণে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে মেহেরপুর জেলা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে প্রায় সকাল ১০টা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান।
কেন এই অভিযান করা হলো
অভিযানকারীরা জানান, হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ও উদ্যোগী এলাকায় ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় রোগীরা অনভিপ্রেত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। এ রকম একটি সংবেদনশীল স্থানে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি হওয়ায় তারা এই পরিচ্ছন্নতাকর্ম শুরু করেছেন।
কর্মসূচির নেতৃত্ব ও উপস্থিতরা
সকাল সাড়ে সাতটা থেকে তিন ঘণ্টা ধরে পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নেতৃত্ব দিয়েছেন অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:
- অধ্যক্ষ ফয়েজ মোহাম্মদ — মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি
- রোমানা আহমেদ — জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক
- ওমর ফারুক লিটন — জেলা বিএনপি নেতা
- জেলা জাসাসের সদস্য সচিব এ বাকা বিল্লাহ
- সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম
- জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি এস এ খান শিল্টু
- এছাড়া বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী ও নেতৃবৃন্দ
| অংশগ্রহণকারীর নাম | পদবী/সংগঠন |
|---|---|
| অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান | জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক |
| অধ্যক্ষ ফয়েজ মোহাম্মদ | সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি |
| রোমানা আহমেদ | জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক |
| ওমর ফারুক লিটন | জেলা বিএনপি নেতা |
অভিযানের উদ্দেশ্য ও আহ্বান
অভিযানে অংশ নেওয়া নেতারা সংবাদিকদের জানান, হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে রোগীর স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোই তাদের মূল উদ্দেশ্য। তারা সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে ও হাসপাতাল এলাকায় আবর্জনা না ফেলা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সমর্থন করার আহ্বান জানান।
তারা আরও বলেন, এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে যাতে করে হাসপাতালের সেবাগ্রহণকারীরা একটি সুস্থ ও স্বচ্ছ পরিবেশে স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন।
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী চ্যালেঞ্জ
স্থানীয়রা বলছেন, অল্প সময়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযান হলেও দীর্ঘমেয়াদে যদি হাসপাতালে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা যায় তা হলে রোগী ও দর্শনার্থীরা পুনরায় সমস্যার মুখে পড়বেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও রোগী পরিবার সকলের সমন্বয় দরকার হবে।
চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মনে রাখা জরুরি:
- নিয়মিত আবর্জনা সংগ্রহ ও বাজেয়াপ্ত ধারাবাহিক ব্যবস্থা
- বর্জ্য পৃথকীকরণ ও নিরাপদ নিষ্পত্তি
- রোগী ও দর্শনার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি
- হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা তদারকির জন্য নির্দিষ্ট দায়িত্বশীল সমন্বয়কারী নিয়োগ
অভিযানে থাকা নেতারা বলেন, শুধু একবারের পরিচ্ছন্নতা যথেষ্ট নয়; সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, হাসপাতালের পক্ষ থেকেও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এই কর্মসূচি সম্পর্কে হাসপাতালের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অধ্যুষিত এলাকায় এই ধরনের সচেতনতামূলক কাজ সময়োপযোগী বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এই ঘটনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিভিন্ন স্তর কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে রোগীদের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়— সেই প্রশ্নটিই সামনে আসে।