কক্সবাজারের পাহাড়ি জনপদে অবস্থিত ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কের হিমছড়ি ঢালায় সোমবার (তারিখ: ঘটনার দিন) দিনের বেলায় সশস্ত্র মুখোশধারী দলের লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। দুই দফায় সংঘটিত এই ঘটনার ফলে সড়কে চলন্ত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বহু যাত্রী নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী হারিয়েছেন।
ঘটনার বর্ণনা ও ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যা
স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুই দফায় ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের একাংশ দাবি করেন ডাকাতরা কয়েক ঘণ্টা ধরে সড়কে যানবাহনের গতিরোধ করে বড় পরিমাণ লুটপাট চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কিছু দল বিষয়টি ভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন, ফলে লুটপাটের নির্দিষ্ট সংখ্যায় ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে।
| বিষয় | প্রতিবেদন অনুযায়ী তথ্য |
|---|---|
| ঘটনাস্থল | হিমছড়ি ঢালা (ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কের মধ্যে) |
| ঘটনার ধরণ | দুই দফায় সশস্ত্র মুখোশধারীদের দ্বারা যাত্রী জিম্মি ও লুটপাট |
| লোকসাহচর্য/প্রভাবিত যানবাহন | প্রতিবেদনে ভিন্নতা—কেউ বলছে ১৫–১৬টি যানবাহন, অন্যরা দাবি করেন ৫০–৬০টি |
| পুলিশি অবস্থান | ঘটনার পর টহল বৃদ্ধি ও অভিযান চলছে; সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রেপ্তার নেই |
ভুক্তভোগীদের বিবরণ ও দাবি
একজন ভুক্তভোগী, স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার ব্যবস্থাপক মো. রবিুল ইসলাম দাবি করেছেন যে দুপুরের দিকে মোটরসাইকেলে ঈদগাঁও থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন—হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে মুখোশধারী প্রায় ১০–১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের আটক করে পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে। তাঁর কথায়, তাদের কাছ থেকে নগদ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
“স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে যানবাহনে লুটপাট চালিয়ে জঙ্গলে আত্মগোপন করেছে। তাদের ধরতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।”
ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার প্রথম আলোকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, টহল জোরদার করা হয়েছে এবং আটক অভিযানে যত্নশীলভাবে কাজ চলছে। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি বলে জানান তিনি।
স্থানীয় আরেক ভুক্তভোগীর বিবরণ
অপর এক ভুক্তভোগী, একই এলাকার আরেকটি এনজিও শাখার হিসাবরক্ষক আবদুল হাকিম জানান, তাদের দলকে অস্ত্রের মুখে বাধা দিয়ে নগদ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাদের জঙ্গলে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে।
পুলিশি পদক্ষেপ ও এলাকাবাসীর উদ্বেগ
পুলিশ জানায়, ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই পাহাড়ি সড়কের বিভিন্ন স্থানেই টহল জোরদার করা হয়েছে এবং কয়েকটি দল ঘটনাস্থল ও আশপাশের জঙ্গলে অভিযান চালাচ্ছে। তবে ঘটনার সময় সড়কে যথাযথ টহল ছিল না বলে স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, সন্ধ্যার পর থেকে এই সড়কে চলাচল স্বাভাবিকভাবে বন্ধ রাখতেই হয় নিরাপত্তাহীনতার কারণে।
- পুলিশি ব্যবস্থা: টহল বাড়ানো, পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার অভিযান
- ভুক্তভোগীদের ক্ষতি: নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, ব্যক্তিগত কাগজপত্র ও মারধরের ঘটনা
- স্থানীয় উদ্বেগ: সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত না হলে ভোগান্তি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধের সম্ভাবনা
পরিপ্রেক্ষিত ও প্রতিরোধ
ঈদগাঁও-ঈদগড় রুটটি পাহাড়ি ও জঙ্গলি এলাকার মধ্য দিয়ে গেলে সেখানে দুষ্কৃতীদের কার্যক্রম সময়ে সময়ে বাড়ছে—স্থানীয়রা এবং পুলিশ উভয়ই এ কথাটি উল্লেখ করেছেন। নিরাপত্তা বর্ধনের জন্য কোরবানির রুট বা অন্য মৌসুমে পর্যটক ও ব্যবসায়িক চলাচলের সময় অতিরিক্ত টহল ও স্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপনের অনুরোধ করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশী অভিযান চলছে। সঠিক সংখ্যার ভিন্নতার প্রশ্ন উত্থান করায় তদন্ত শেষে পরিসংখ্যান চূড়ান্ত হবে। এ সময় এলাকাবাসী ও যাত্রীরা অনুরোধ করছেন—যতক্ষণ পর্যন্ত স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হয়, ঘনব populated এলাকায় বা দলবদ্ধভাবে চলাচল করতে এবং জরুরি ফোন নম্বর সাথে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।
এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত সব তথ্য ঘটনাস্থল ও পুলিশি সূত্র থেকে সংগৃহীত; ঘটনার ব্যাপারে আমাদের অনুসন্ধান ও থানার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার বক্তব্য অনুসরণ করে প্রাসঙ্গিক তথ্য দাখিল করা হয়েছে।
নিশা কর্নেল
কক্সবাজার প্রতিনিধি, ZTL