চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে সাজাভোগরত বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন (৬৪) বুধবার রাতে অসুস্থ হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃত্যু সংবাদ জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলা দাবি করেছেন। কারা কর্তৃপক্ষ বলেছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারকে জানানো হয়।
ঘটনার সময়রেখা ও হাসপাতালের তথ্য
স্থানীয় হাসপাতালের সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১১টা ২০ মিনিটে আনোয়ার হোসেনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে হাসপাতাল ও কারাগার সূত্রে বলা হয়েছে।
| বিবরণ | তারিখ/সময় |
|---|---|
| হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে | ২১ অক্টোবর, রাত ১১:২০ |
| চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু | ২১ অক্টোবর, রাত ১১:৫৫ |
| আনুমানিক বয়স | ৬৪ বছর |
| কারাগারে বন্দিত্বের ধরণ | দুই বছরের সাজা (মারামারি মামলায়) |
পরিবার ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
মৃত ব্যক্তির ছেলে তাজ উদ্দীন অভিযোগ করে বলেছেন, তাদেরকে সময়মতো কিছু জানানো হয়নি। তিনি বলেন, "আমার বাবা জমিজমাসংক্রান্ত একটি মিথ্যা মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। গত বুধবার রাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছুই জানায়নি। তাঁর মৃত্যুর পর আমাদের জানানো হয়।" তিনি আরও জানিয়েছেন যে বরাবরই তার বাবার হৃদরোগসহ বিভিন্ন সমস্যা ছিল এবং তারা জানে না কেন হাসপাতালে নিলে আগে তাদের অবহিত করা হয়নি।
"আমার বাবা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, অথচ সেই বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ। বাবার এমন মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না।" — তাজ উদ্দীন, নিহতের ছেলে
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু বলেন, পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনিক অবহেলার বিষয়টি কেন্দ্র করে উদ্বিগ্ন। তিনি দাবি করেন, মৃত্যুর প্রায় দুই ঘণ্টা পর পরিবারকে জানানো হয়েছে এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, তদন্তে যদি অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের জেল সুপার গোলাম দস্তগীর (সূত্রে চলতি দায়িত্বে শাখাওয়াত হোসেন নাম উল্লেখ আছে) জানিয়েছেন, আনোয়ার হোসেন মারামারির একটি মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হলে নিয়ম অনুসারে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের পরই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, তাঁর দেহের মৃত্যুর কারণ হিসেবে হার্ট অ্যাটাক বা তীব্র হৃদ্যন্ত্রের সমস্যাহতেই উল্লেখ থাকতে পারে এবং তিনি আগে থেকেই ডায়াবেটিস, হাঁপানি ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন।
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দির চিকিৎসা ও নিরাপত্তা জানাশোনা, পরিবারের প্রতি দ্রুত যোগাযোগ রাখা—এগুলো স্থানীয় জনস্বাস্থ্যের ও মানবিক দায়িত্বের অংশ। এমন ঘটনার পর মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও উদ্বেগ তৈরি হয় যে কারাগারের ভেতরে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোথাও ঘাটতি ছিল কি না। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ও পরিবার দাবি করেছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদবির করে যে কোন অনিয়ম থাকলে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে।
- মরদেহ ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
- কারাগার কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়ম অনুযায়ী সুরতহাল তৈরি করা হয়েছে।
- পরিবার ও বিএনপি নেতারা বলেছেন—ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের স্কুলপাড়া এলাকার মৃত আমিরুল ইসলামের ছেলে আনোয়ার হোসেন ওই ইউনিয়নের সাবেক বিএনপি সভাপতি ছিলেন। তিনি গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কারাগারে বন্দি ছিলেন। ঘটনার পরে স্থানীয় প্রশাসন ও কারাগার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ এবং ময়নাতদন্তের ফল প্রত্যাশিত।
ময়নাতদন্ত ও তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ ও কোনো অবহেলা ছিল কি না—তার বিষয়ে স্পষ্ট বলা সম্ভব হবে। ওই রিপোর্ট না এলে শেখা যাবে না ঘটনাটির পেছনে থাকা ঘটনার সম্পূর্ণ চিত্র। স্থানীয় নেতারা ও পরিবারের পক্ষ থেকে আজকের ঘটনার সমন্বিত তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
নোট: এই সংবাদে প্রয়োগ করা সব তথ্য স্থানীয় হাসপাতাল, কারা কর্তৃপক্ষ ও নিহতের পরিবারের উদ্ধৃত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ না হলে মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণ সম্ভব হবে না।